২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৪ বছর পূর্তি আজ


মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী জুট মিলের জায়গায় গড়ে ওঠা আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৪৮ হাজার শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছে। এইপিজেড থেকে গত ১০ বছরে (ডিসেম্বর-২০১৫ইং পর্যন্ত) বিদেশে রফতানি করা হয়েছে ১৯৪৫.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। চালু হওয়ার পর থেকে ডিসেম্বর-২০১৫ইং পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে ৩৩৯.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আদমজী ইপিজেডের অগ্রগতি তথ্য (আপডেট তথ্য) সংগ্রহ করতে এইপিজেড কার্যালয়ে গেলে উর্ধতন কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এদিকে আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে অবাধে সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামিরাও অহরহ ঢুকে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালের ৩০ জুন বিএনপি সরকার ১২শ’ কোটি টাকা লোকসানের অজুহাতে আদমজী মিলটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ে। ঐতিহ্যবাহী মিলটি বন্ধের আজ (বৃহস্পতিবার) ১৪তম বছর পূর্ণ হলো।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরীতে গড়ে তোলা হয়েছে আদমজী ইপিজেড। বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের জায়গায় আদমজী ইপিজেড তৈরি করা হয়। আদমজী ইপিজেডটি ২০০৬ সালের ৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়।

এইপিজেডের ওয়েবসাইট ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৪৫.১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড (এইপিজেড) স্থাপিত হয়েছে। এইপিজেডের মোট প্লটের সংখ্যা ২২৯টি। ৬০টির বেশি দেশী-বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ৪৮টি কারখানা চালু রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। কোন কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান ১০ এর অধিকও প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব কারখানায় গার্মেন্টস, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মুজা, জুয়েলারি, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে, যা ১০০ ভাগ রফতানিযোগ্য পণ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ৪৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা কাজ করছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন। শুরু থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের (ডিসেম্বর-১৫ পর্যন্ত) মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৩৩৯.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডালার। শুরু থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের (ডিসেম্বর-১৫) পর্যন্ত ১০ বছরে সর্বমোট ১৯৪৫.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়। হংকং, কানাডা, জাপান, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইউইএ, আমেরিকা, থ্যাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, পুর্তুগাল, চীন ও মরিউশাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ এইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে। এদিকে বুধবার এইপিজেডের কার্যালয়ে অগ্রগতি তথ্য (আপডেট তথ্য) নিতে গেলে জিএমসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য পরে ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) তথ্য দিবেন বলে জানান। এভাবেই তথ্য নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।

আদমজী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আশরাফুল কবির জানান, আদমজীতে বর্তমানে ৪৮ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠান চালু হলে প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এইপিজেডে কাজ করতে পারবে।

অভিযোগ রয়েছে, আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে ইপিজেড, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, র‌্যাব ও পুলিশ ছাড়া অন্য কোন যানবাহন অভ্যন্তরে ঢুকা নিষেধ। অথচ বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় অহরহ অটো রিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল আনসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের সামনেই ঢুকছে। খবর নিয়ে জানায়, আনসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের টাকা দিলেই অহরহ এ সকল যান ভেতরে ঢুকতে পারছে। এছাড়াও আরও অভিযোগ রয়েছে, এইপিজেডের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামিরাও নির্বিঘেœ ঢুকে প্রভাব বিস্তার করছে। আদমজী ইপিজেডের নিরাপত্তা পরামর্শক মেজর (অব) তাইজউদ্দিন আহমেদ জানান, আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে অটো রিক্সা, রিক্সা, ভ্যান চলাচল শতভাগ নিষিদ্ধ। এ যানগুলো ঢুকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।