২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিলেটে ঈদের কেনাকাটায় পাউন্ডের দর পতনের প্রভাব


সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ নগরীর অভিজাত শপিংমলে এই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঈদের বাজারে দোকানিদের কাছে প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা বড় ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত। কারণ তারা বিদেশে নিয়ে যাবার জন্যই কেনাকাটা করে থাকেন অধিক হারে। এছাড়া এদেশীয় বসবাসকারী প্রবাসী পরিবারের লোকেরাও ভাল ক্রেতা হিসেবে দোকানিদের কাছে পরিচিত। দোকানিরা মৌসুম ছাড়াও তাদের কাছ থেকে ভাল ব্যবসা করে থাকেন। সঙ্গত কারণে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে দোকানিরাও চোখ রাখেন সেসকল ক্রেতাদের আগমনের ওপর। ঈদ উপলক্ষে লন্ডন আমেরিকায় ছেলে মেয়ে আত্মীয়স্বজনের নিকট এখান থেকে কুরিয়ার সার্ভিসে দেদারছে জামা কাপড় যাচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের যে সকল পরিবার সরাসরি পাউন্ড ডলরের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বেশ চিন্তাভাবনা করেই ঈদে খরচ করতে হচ্ছে। দেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা আসে সিলেটে। আর প্রবাসে বসবাসরত সিলেটিদের বেশিরভাগের অবস্থানই লন্ডনে। ঈদকে সামনে রেখে তারা অপেক্ষায় রয়েছেন কবে আসবে বিদেশ থেকে টাকা আর কবে ঈদের কেনাকাটা করবেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চায় না। এ ব্যাপারে সে দেশের নাগরিকরা ভোটও দিয়েছে না থাকার পক্ষে, যা কি-না ব্রেক্সিট নামে পরিচিতি পেয়েছে। আর এ ব্রেক্সিটের ফলে ৩১ বছরে সর্মনিম্ন দামে পৌঁছেছে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য। সচরাচর পাউন্ডের মূল্য বাংলাদেশে ১১০-১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকায়। এতে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যা নিয়ে রীতিমত হিসাব করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। পাথর ব্যবসায়ী শেবুল আহমদ জানান, তার ক্রেতা হেদায়েতুল ইসলাম লন্ডন প্রবাসী ব্যবসায়ী। গত ১ মাস যাবত তার কাছ থেকে নেয়া পাথরের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। পাউন্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় লোকসানের কথা ভেবে তার কাছ থেকে শুধু সময় নিচ্ছেন। নগরীর শপিং মলের রেডিমেড ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবছর যারা নিয়মিত অনেক টাকার শপিং করেন, সেই পরিবারের সদস্যদের কেনাকাটার মাত্রা অনেক কম।