১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লুফথানসা প্রতিনিধির শাহ্জালালে রফতানি কার্গো হাউস পরিদর্শন


আজাদ সুলায়মান ॥ জার্মানি সরাসরি কার্গো বন্ধ করে দেয়ার তিন দিনের মাথায় ঢাকায় এক দিনের ঝটিকা সফরে আসেন লুফথানসা এয়ারলাইন্সের আঞ্চলিক প্রতিনিধি মি. রয়েস্টন ডেভিড ম্যান। বুধবার তিনি হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের রফতানি কার্গো হাউস পরিদর্শন করেন।

বিমান সূত্র জানায়, লুফথানসা এয়ারলাইন্সের সাউথ এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি ম্যান মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসেন। বুধবার সকালে তিনি সরাসরি বিমানের কার্গো হাউসে যান। এ সময় বিমানের মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) মোহাম্মদ আলী হাসান বাবুর সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন। তিনি জানতে চান বিমানের সর্বশেষ নেয়া পদক্ষেপ কাগজে কলমে যা দেখানো হচ্ছে- বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেছে কিনা। আলী হাসান বাবু তাকে তথ্য প্রমাণাদি দিয়ে ইতোমধ্যে নেয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর তিনি সরজমিনে কার্গো ভবন পরিদর্শন করেন। প্রথমেই তিনি ছুটে যান-স্ক্যানার পয়েন্টে। এখানে কিভাবে বিভিন্ন পণ্যের প্যাকেট স্ক্যান করা হয়, কিভাবে ডকুমেন্টাশন করা হয়- সেটা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ করে ইউরোপগামী কার্গোর জন্য সদ্য তৈরি স্পেশাল কেইজ কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে- যারা এখানে কাজ করছেন-তাদের নিরাপত্তা পাস ও ব্যক্তিগত তথ্যাবলী কিভাবে সংরক্ষিত করা হয় সে সম্পর্কে জানতে চান তিনি। এ সব বিষয়ে তাকে জানানো হয়-সুনির্দিষ্ট পাস ছাড়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয় ভেতরে প্রবেশ। এমনকি মহাব্যবস্থাপক নিজেও পাস ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পাননি।

জানা যায়, কার্গো পরিদর্শন শেষে আবারও মহাব্যবস্থাপক আলী আহসান বাবুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন রয়েস্টন ডেভিড ম্যান। পরিদর্শন শেষে তিনি কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও আগের তুলনায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে সেটা স্বীকার করেন। এ সময় সিভিল এ্যাভিয়েশনের (মেম্বার অপস) এয়ার কমডর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও রেডলাইনের প্রতিনিধি ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ব্রিটিশ কোম্পানি রেডলাইনের কর্মকর্তারা কার্গো ভবনের অটোমেশন পদ্ধতিসহ অন্যান্য প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। বিশেষ করে নিñিদ্র নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেদ করে কোন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য যে উড়োজাহাজে প্রবেশ করানো আদৌ সম্ভব নয় সেটাই নিশ্চিত করা হয়।

এ সম্পর্কে সিভিল এ্যাভিয়েশনের মেম্বার (অপস) এয়ার কমডর মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, লুফথানসার প্রতিনিধি হিসেবে ডেভিড ম্যান সরজমিনে কার্গো পরিদর্শন করার সময় আর এ-৩ ফ্যাসিলিটিজ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি কোথাও কোন ঘাটতি তার চোখে পড়েনি। এখন তিনি ফিরে গিয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট দিলেই হয়ত জার্মানি সেভাবেই পরবর্তী ফ্লাইট চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জনকণ্ঠকে বলেন, জার্মানি প্রতিনিধি বিমান ও সিভিল এ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারা তো এর আগেও একাধিকবার বৈঠক করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

একদিকে সন্তোষও প্রকাশ করে-অন্যদিকে হঠাৎ করে সরাসরি কাগোর ওপর আপত্তি দেয়। এটা তো ডুয়েল রুল। আমরা তো ওনাদের প্রেসক্রিপশন মতো সবাই করেছি।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের পর জার্মানিও গত রবিবার হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউরোপের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটে দেশ এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের গার্মেন্টস খাত। বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য জার্মানিতে রফতানি করা হয়। ঢাকা থেকে জার্মানির এয়ারলাইন্স লুফথানসা এককভাবে এ কার্গো পরিবহন করে। প্রতি সপ্তাহে বিমানের এ কার্গো হাউস থেকে ৬০ টন গার্মেন্টস পণ্য নেয় লুফথানসা। গত রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে রফতানির জন্য বিপুল পরিমাণ গার্মেন্টস পণ্য লুফথানসা এয়ারওয়েজের মাধ্যমে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়। মালামাল প্রায় জাহাজে তোলার পূর্ব মুহূর্তে জানানো হয়, জার্মানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ঢাকা থেকে জার্মানিতে সরাসরি কোন কার্গো পণ্য পাঠাতে হলে তৃতীয় কোন দেশে তা আবারও পরীক্ষা (স্ক্রীনিং) করতে হবে।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি লন্ডনের কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এখনও পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল তবিয়তে। তারও আগে অস্ট্রেলিয়াও একই কায়দায় ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো একই সুরেই অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। লন্ডনের কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করায় বিমানকে বড় ধরনের মাসুল গুনতে হচ্ছে। সপ্তাহে ঢাকা থেকে চারটি ফ্লাইটে যে পরিমাণ কার্গো বহন করা হতো- তাতে মাসিক কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো। গত তিন মাস এ আয় থেকে বিমান বঞ্চিত।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: