২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে উন্নয়ন কাজে চার কোটি টাকা ঘুষ


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৩৪ কোটি টাকার কাজে ৪ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন পাউবোর ঠিকাদারগণ। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ঠিকাদাররা। এর আগে পাউবোর অফিস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হয়। পরে পাউবোর ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেন।

অভিযোগে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের (পওর) বিভাগের অধীনে ঠিকাদারগণ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ পেয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার কাজ সমাপ্ত করেন। কাজ সম্পাদনের পরও কাজের বিল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা ঘণ্টাব্যাপী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ঘেরাও করে রাখেন। বুধবারের মধ্যে কোন সুরাহা করতে ব্যর্থ হলে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর) কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঠিকাদাররা। মঙ্গলবার সকালে পাউবো ভবনের সামনে কক্সবাজার পানি ঠিকাদার সমিতি সংবাদ সম্মেলণেরও আয়োজন করেন। ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কক্সবাজার জেলায় সরকারের ‘অনুন্নয়ন খাতে (এনডিআর)’ বরাদ্দকৃত বাজেটের বাইরে গিয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করেন।

কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার পরেও নির্বাহী প্রকৌশলীর আশ্বাসের ভিত্তিতে ঠিকাদাররা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং কার্যাদেশ পেয়ে যথারীতি তাদের কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জুন ফাইনালের আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা তাদের কাজের বিপরীতে প্রাপ্য বিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ঠিকাদারদের ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত পাওনা বিল পরিশোধের আশ্বাস দেন। এদিকে বৃহস্পতিবার ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা তাদের পাওনা বিল চাইতে গেলে তিনি বরাদ্দ না থাকার বিষয়টি গোপন রেখে নানা ছলছাতুরির আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ঠিকাদাররা বোর্ডের হেড অফিস ও মন্ত্রণালয়ে খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, কক্সবাজার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক টেন্ডারকৃত ৩৪ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে কোন বরাদ্দ নেই এবং ফান্ডে জমা হয়নি।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, এ অর্থবছরে ৩৪ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদানের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ঠিকাদারদের কাছ থেকে শতকরা ৫ ও ১০ ভাগ হারে অর্থাৎ এক কোটিতে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা সরাসরি ঘুষ আদায় করেছেন। সরকারের বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ ফান্ডে রক্ষিত আছে দাবি করে ঘুষের পরিমাণ বেশি হওয়ার জন্য বেশি টাকার (৩৪ কোটি) টেন্ডার করিয়ে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান। আর এই বিশাল অঙ্কের টাকা ঘুষ প্রদান করে কার্যাদেশ পেয়ে কাজ সমাপ্ত করার পরেও প্রাপ্য বিল পাওয়ার কোনরূপ সম্ভাবনা না দেখে তারা কর্মসূচী পালনে বাধ্য হন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান কাজের বিপরীতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদাররা কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বাজেটে অর্থ না থাকায় তাদের বিল যথাসময় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঠিকাদাররা তাদের পাওনা পেয়ে যাবেন।