২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কালোবাজারে লঞ্চের টিকেট


খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চযাত্রীরা দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও দালাল প্রতিরোধের বিষয়টি কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও লঞ্চ মালিকদের নজরে না আসায় ইতোমধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ঈদ উৎসব উপলক্ষে লঞ্চের আগাম টিকেট বিক্রি শুরুর আগেই কেবিনের টিকেট দালালের হাত ঘুরে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে এবারও লঞ্চযাত্রীদের হয়রানি কোন অংশেই কমছে না। সূত্রমতে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ’র এক প্রস্তুতি সভা সোমবার বরিশাল নৌবন্দরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় খোদ বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এ অভিযোগ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট লঞ্চ মালিকদের টিকেট কালোবাজারি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

ওই সভায় ঈদ উৎসবে নৌপথের যাত্রা নিরাপদ করতে ২৪টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সকল পন্টুন ও গ্যাংওয়ে ব্যবহার উপযোগী রাখাসহ উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভিক ও টাগ স্ট্যান্ডবাই রাখা, নৌপথে পর্যাপ্ত বয়া-বিকনবাতি স্থাপন, অজ্ঞান ও মলমপার্টির তৎপরতা রোধ, ভিআইপি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা না করে যাত্রীবোঝাই হবার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট ত্যাগ, ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত নৌবন্দরে মেডিক্যাল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলের টিম সার্বক্ষণিক উপস্থিত, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে সবধরনের মাছধরা জাল অপসারণ, নৌবন্দরে অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ারের ব্যবস্থা এবং নৌবন্দরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন। উল্লেখিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। সূত্রে আরও জানা গেছে, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবারও ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত লঞ্চ সার্ভিসের সঙ্গে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন শুরু করা হবে।

তবে এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে অপ্রতুল জীবনরক্ষার সরঞ্জাম থাকায় প্রতিবছরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।