২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আর্চার কে ব্লাড ছিলেন বাংলাদেশের বন্ধু


তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকায় পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার নিন্দা জানাতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন। তিনি আর্চার কে ব্লাড। তিনিই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রথম ভিন্ন মতাবলম্বী কর্মকর্তা। মার্কিন ইতিহাসে তিনিই প্রথম ভিন্নমত পোষণ করে কঠোর ভাষায় একটি টেলিগ্রাম পাঠান। এটি ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত এবং এটি তার জীবনকে লক্ষ্যণীয়ভাবে পরিবর্তন করে দেয়।

ব্লাড টেলিগ্রাম হলো মার্কিন দূতাবাসের মধ্যমসারির এক কর্মকর্তার রচিত সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী শাব্দিক ভিন্নমত পোষণের গতিপথ ‘ডিসেন্ট চ্যানেল’। ২০১৩ সালে নতুন প্রকাশিত তথ্য গ্যারি জে বাসের সেরা ইতিহাস ‘দি ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন, কিসিঞ্জার এ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ এর ভিত্তিতে পরিণত হয়। আর এই ইতিহাসে ব্লাডের ভিন্নমতকে বীরত্বপূর্ণ পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সরকার ব্লাডের কর্মকা- মেনে নিয়েছে। তার টেলিগ্রামের কথা ভবিষ্যত পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদি ব্লাড ভিন্নমতের উদাহরণে পরিণত হন তাহলে তিনি ব্যবহারিক ও নৈতিক দিক থেকেও সঠিক বলে প্রমাণিত হন। তিনি ২০০৪ সালে মারা যান। ১৯৭০ সালে তাকে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে কনসাল জেনারেল নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু তখন পাকিস্তান ঢাকার ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল। বাঙালী জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঢাকা তখন উত্তাল হয়ে উঠে এবং পাকিস্তান ঢাকায় তার সৈন্য ক্রমেই বাড়াতে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হামলা শুরু করে তখন ব্লাডের স্টাফরা কার্যত বন্দী হয়ে পড়েন। কিন্তু তার দুই কর্মকর্তা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে এ হত্যাকা- সম্পর্কে ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটারের সাহায্যে রিপোর্ট করতে সক্ষম হন। তবে এ রিপোর্ট ওই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তারা তখন পাকিস্তানকে সহায়তা করতে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। টেলিগ্রামগুলোতেও ব্লাডের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তিনি সিলেক্টিভ জেনোসাইড শিরোনামে এক টেলিগ্রামে লেখেনÑ পাক সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার ভয়াবহতা একদিন প্রকাশ্যে আসবেই।

ওয়াশিংটনের সাড়া না পেয়ে হতাশ এক তরুণ পলিটিক্যাল অফিসার ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল বিরোধিতা করে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এটিই ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের প্রথম বার্তা। তবে কেউ জানেন না এজন্য ব্লাডকে কী সহ্য করতে হয়েছিল। কিসিঞ্জার ক্ষুব্ধ হয়ে ব্লাডকে দ্রুত ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনেন এবং তাকে মানবসম্পদ বিভাগে স্থানান্তর করেন। ১৯৭১ সালে ভিন্ন মতাবলম্বী টেলিগ্রামে স্বাক্ষর করা ২৯ রাষ্ট্রদূতের একজন হওয়ার্ড বি স্কাফার বলেছেন, ব্লাডের টেলিগ্রাম ওয়াশিংটনের নীতিতে কোন পরিবর্তন আনেনি। কিন্তু তার ক্যারিয়ারে ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং তিনি কখনও রাষ্ট্রদূত হতে পারেননি। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস