১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাড়তি ভাড়ার বিড়ম্বনা


রুহুল আমিন ভুইয়া

ঈদ মানে আনন্দ। সেই আনন্দঘন মুহূর্তটি আমাদের খুব কাছেই। ঈদ আসলে নাড়ির টানে আনন্দঘন মুহূর্তটি এক সঙ্গে উদযাপনের জন্য মানুষ ছুটে স্বজনের কাছে। কিন্তু, পথের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। আর সেই দুর্ভোগ বাড়ে উৎসব যাত্রায়। দুই ঈদের মানুষ বেশ কয়েকদিন ছুটি পায়, স্বাভাবিকভাবেই মানুষ প্রত্যাশা করে উৎসবের ছুটির দিনগুলো প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাটাবে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেবে। কিন্তু মানুষের সেই প্রত্যাশাকে পুঁজি করে একদিকে চলে গলাকাটা ব্যবসা, অন্যদিকে বাড়িয়ে তোলা হয় দুর্ভোগ। সারা বছর আমাদের সড়ক পথে যে যানবাহনগুলো চলে, ঈদের সময়েও তাই। কিন্তু ঈদের সময়ে পথে মানুষের সংখ্যা বাড়ে। যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বাড়ে। ফলে কেউ কেউ এর সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের হয়রানির মধ্য দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করে। প্রতিবছর মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিগ্ন করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

পরিবহন মালিক সমিতিও তাদের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয় না। ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট ছাড়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এবার ঈদে ঘরে ফেরার অগ্রিম বাসের টিকেট বিক্রি শুরু“হয়েছে ২০ জুন থেকে। কিন্তু প্রথম দিনই ঈদের অগ্রিম টিকেট ২ ঘণ্টায় শেষ। বেশি দামে নিতে হচ্ছে টিকেট। এবং সব দৈনিকের খবর এবারো প্রথম দিন থেকেই টিকেট প্রত্যাশীদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। কাউন্টারে প্রথম দিনেই সব টিকেট শেষ, সেই সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তো রয়েছেই। মিডিয়া বলছে, বাসের আগাম টিকেট ছাড়ার প্রথম দিনেই ঘরমুখো যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। প্রচ- তাপদাহ সহ্য করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পাননি বাড়ি ফেরার টিকেট। সেই সঙ্গে আগের মতো বাস টার্মিনালগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না থাকায় এবার যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

বাড়তি ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, কোন যাত্রীর কাছ থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রী যেখানেই নামুক, টিকিটে তাদের শেষ স্টপেজের ভাড়া দিতে হবে। উদ্ভট এই যুক্তি শুধু ঘরমুখো যাত্রীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বাড়তি অর্থ আদায়ের অজুহাত। উত্তরবঙ্গের যে বাসগুলো শুধু বগুড়া পর্যন্ত যাতায়াত করে। ঈদ উপলক্ষে সে বাসগুলোর যাত্রীদের কাছ থেকে রংপুর, গাইবান্ধার ভাড়া আদায় করা হয় শেষ স্টপজের কথা বলে। এই চিত্র সব এলাকার জন্যই। শুধু পরিবহন সেক্টরেই নয়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের বড় লঞ্চগুলোতেও মিলছে না ঈদের আগের পাঁচ দিনের টিকেট।

প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের আনন্দ উৎসবকে ম্লান করে দিতে পরিবহন সেক্টরে যেভাবে মানুষকে হয়রানি এবং তাদের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়, তাই যথেষ্ট। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকার এবং পরিবহন মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া মেনে চলার জন্য মালিক পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। সেই সঙ্গে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

মুলাদী, বরিশাল থেকে