মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৯ আগস্ট ২০১৭, ৪ ভাদ্র ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাত চেনাল চ্যাম্পিয়নরা

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৬
  • মোঃ তাইজুল ইসলাম

তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালের টিকেট, অতঃপর টি২০র ‘পাওয়ার হর্স’ উইন্ডিজ আর ‘দুর্ধর্ষ’ প্রোটিয়াদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডের শিরোপা জিতল স্টিভেন স্মিথের অস্ট্রেলিয়া। অসিরা কেন বড় ম্যাচের বড় দলÑ আরও একবার দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ফাইনালে স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় ৫৮ রানে। ৯ উইকেটে ২৭০ রানের ফাইটিং স্কোর গড়ে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪৫.৪ ওভারে ২১২ রানে অলআউট হয় জেসন হোল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চমৎকার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ‘নায়ক’ মিচেল মার্শ। ৪.৩০ ইকোনমি রেটে ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার পকেটে পুড়েছেন পেসার জস হ্যাজলউড।

অথচ ফাইনালে ৫৬ রানে টপঅর্ডারের ৫ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের কেউই ৫০ পেরোতে পারেননি। ১৭৩ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন ভাল কিছুর ইঙ্গিত দেয়া মিচেল মার্শও (৪৫ বলে ৩২)। অস্ট্রেলীয় ভক্তরা তখন টস জিতে স্মিথের ব্যাটিং বেছে নেয়ার যৌক্তিকতা খুঁজতে ব্যস্ত। এর পরই টেল-এন্ডারদের নিয়ে ওয়েডের ওই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং। ছোট ছোট তিনটি জুটি গড়ে দলকে যেভাবে চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে নিয়ে গেছেন, সেটিকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। সপ্তম উইকেটে মিচেল স্টার্ককে (১৭) নিয়ে ৩৮, অষ্টম উইকেটে কাল্টার নাইলের (১৫) সঙ্গে ২৮ এবং নবম উইকেট জুটিতে এ্যাডাম জাম্পাকে (৫) নিয়ে ২৬ রান যোগ করেন সাত নম্বরে নামা এই উইকটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। তাতেই শেষ ১৩ ওভারে ৩ উইকেট থেকে আসে মহামূল্যবান ৯৭ রান। ওয়েড ৫২ বলে তার ৫৭ রানের অপাাজিত ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ চার ও ৩ ছক্কায়।

এর পরও হয়ত অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিন্ত ছিল না। কারণ সদ্য টি২০ বিশ্বকাপজয়ী উইন্ডিজ দলে ছিলেন মারলন স্যামুয়েলস, ড্যারেন ব্রাভো, কাইরেন পোলার্ডের মতো ধুরন্ধর ইনফর্ম ব্যাটসম্যান। কিন্তু ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার (৯.৪-১-৫০-৫) উপহার দিয়ে কাজটা সহজ করে দেন হ্যাজলউড। শুরুর পর শেষটাও করেন এই পেসার। মাঝে মিচেল মার্শের তিন ওভারের বিধ্বংসী এক স্পেলে শেষ ক্যারিবীয়রা। ৬২/১ থেকে উইন্ডিজ পরিণত হয় ৭২/৪-এ। এক ওভার বিরতি দিয়ে করা নিজের শেষ ৬ ওভারের স্পেলে মার্শ দিয়েছেন মাত্র ৭ রান! ২৭ রানে শেষ ৪ উইকেট পড়েছে স্বাগতিকদের। ওই চারটিই নিয়েছেন হ্যাজলউড। ক্যারিবীয়দের প্রতিরোধ বলতে জনসন চার্লসের ৪৫, দীনেশ রামদিনের ৪০, আর হোল্ডারের ৩৪। ব্যাটিংয়ে দুই বড় নাম ব্রাভো-স্যামুয়েলস দুজনেই ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৬ রান করে, বিগম্যান পোলার্ড ২০।

৫-২, ২০১২ সালের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের অনুপাত। এ নিয়ে শেষ ১০ দেখায় ৯ বারই উইন্ডিজকে হারাল অসিরা। সিরিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্মিথ। তিন হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন সর্বোচ্চ ২৬৪ রান, গড় ৫২.৮০। ‘লিগ পর্বে কয়েকটি ম্যাচে আমার ভাল করিনি। তবে ফাইনালে ছেলেরা সর্বোচ্চটা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ওয়েডের কথা আলাদা করে বলতে হয়। হ্যাজলউড আর মার্শও ছিল আউটস্ট্যান্ডিং। বাবার্ডোজের সুন্দর এই ভেন্যুতে নিজেদের খেলায় আমরা খুশি। সামনের দিনগুলোতে এই সাফল্য আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। চমৎকার একটি ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের জন্য স্বাগতিক ক্যারিবীয়দেরও ধন্যবাদ।’ বলেন স্মিথ। সিরিজ তো বটেই, বড় সব টুর্নামেন্টে ফেবারিট হিসেবে শুরু করেও ব্যর্থতা দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উইন্ডিজ ত্রিদেশীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের সঙ্গে তৃতীয় দল অস্ট্রেলিয়া। যেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অসিরাই ছিল স্বাভাবিক ফেবারিট।

আর সামর্থ্যরে বিচারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে আফ্রিকানরা এগিয়ে। কিন্তু লিগ পর্বে ‘ডু অর ডাই’ শেষ ম্যাচে উইন্ডিজের কাছে ১০০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে উঠতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ব্যর্থতার দায় মাথা পেতে নিয়েছেন অধিনায়ক ও দলের বড় তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। ‘দুঃখজনক বিষয়, এই সিরিজে আমরা খেলোয়াড় হিসেবে কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টকে ছোট করেছি। একাধিক ম্যাচে আমাদের আরও ভাল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। সিরিজ সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতির কোন ঘাটতি ছিল না, বাস্তবতা হচ্ছে আমরা ভাল খেলিনি। পুরো কোচিং স্টাফ তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং ডোমিঙ্গোর মু-ুপাত দেখাটা দুঃখজনক। এমনটা হওয়া উচিত নয়। আমাদের কতিপয় খেলোয়াড়দেরই বরং বেশি চাপে থাকা উচিত। অধিনায়ক হিসেবে আমি নিজেও দায় এড়াতে পারি না।’ প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো প্রসঙ্গে ডি ভিলিয়ার্স।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত চার বছরে আমাদের সকলের ক্যারিয়ারেই অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন। আমি মনে করছি তিনি বেশ ভালভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন... তিনি চাপে আছেনÑ দেখাটা খুবই দুঃখের বিষয়। সিরিজে এই ব্যর্থতার জন্য অবশ্যই কোচিং স্টাফ দায়ী নন। তারা যা করছেন এবং যা করতে চান তাতে তারাই বিশ্বের সেরা, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাজে পারফর্মেন্সের দায় খেলোয়াড়দেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন ডি ভিলিয়ার্স। অস্ট্রেলিয়া প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে। লিগ পর্বের ‘ডু অর ডাই’ শেষ ওয়ানডেতে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে দ. আফ্রিকা ১০০ রানের বড় ব্যবধানে হার মানে! লীগ পর্বে প্রতিটি দল প্রত্যেকের বিপক্ষে তিনবার করে মুখোমুখি হয়। ৬ ম্যাচে ২ জয়ের বিপরীতে ৩টিতেই হারে প্রোটিয়ারা। তাদের একটি খেলা পরিত্যক্ত হয়। ব্যাট হাতে অধিনায়ক নিজেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ২৪ গড়ে করেছেন মাত্র ১২১ রান, ২০১০-২০১১ সালে ভারত সিরিজের পর যা এবির ক্যারিয়ারে (ওয়ানডে সিরিজে) সবচেয়ে বাজে পারফর্মেন্স! ‘আমার বল দেখতে অসুবিধা হচ্ছে না। আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি নেই। সিরিজে পাঁচ বারের মধ্যে চারবারই অসলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হয়েছি!’ বলেন এবি।

একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে হাসিম আমলা (২৪১) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সেরা নয়ে নেই আর কোন দ. আফ্রিকান! বোঝাই যাচ্ছে তারকাখচিত ব্যাটিং কতটা ব্যর্থ।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৬

২৯/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: