২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ফুরফুরে মেজাজে ডোমিনিকা


দুই বছর আগে কানাডার প্রথম প্রমীলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেন ডোমিনিকা সিবুলকোভা। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সেবার চীনের লি নার কাছে হেরে যান তিনি। তারপরও হাল ছাড়েননি সিবুলকোভা। টেনিস কোর্টে নিয়মিতই লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি। তার ফলও পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই সেøাভাকিয়ান। উইম্বলডনের কোর্টে নামার মাত্র দুইদিন আগেই ইস্টবোর্ন টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান ডোমিনিকা সিবুলকোভা। এর ফলে মৌসুমের তৃতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মেখেই যাত্রা শুরু করবেন তিনি। ঘাসের কোর্টে ডোমিনিকা সিবুলকোভার এটাই প্রথম শিরোপা। শনিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্যারোলিনা পিসকোভাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। উইম্বলডনের প্রস্তুতি মঞ্চে সেøাভাকিয়ার এই টেনিস তারকা ৭-৫ এবং ৬-৩ সেটে হারান চেকপ্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভাকে। পায়ের ইনজুরির কারণে গত মৌসুমের বেশির ভাগ সময়ই কোর্টের বাইরে কাটান তিনি। তবে চোট কাটিয়ে ফিরেই নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করেন সিবুলকোভা। চমৎকার পারফর্মেন্স উপহার দিয়েই ইস্টবোর্ন টুর্নামেন্টে চলতি বছরের চতুর্থ ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়েও নিজের সেরাটা দিয়ে খেলেন ১২তম বাছাই। ফাইনালে মাত্র ৯০ মিনিট খেলেই চেকপ্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভাকে হারান তিনি। মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপা জিতে দারুণ সন্তুষ্ট সিবুলকোভা। এ প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। ইস্টবোর্ন টুর্নামেন্টের ফাইনালে যে এমনটা ঘটতে পারে তা বিশ্বাসই করতে পারছি না। কোর্টে প্রচ- বাতাস ছিল। যা আমাদের উভয়ের জন্যই বেশ কঠিন ছিল। তবে বৈরি পরিস্থিতিতেও আমি ভাল খেলেছি। ঘাসের কোর্টে আমার এটাই প্রথম শিরোপা। তাই আমার জন্য এই মুহূর্তটা খুবই আনন্দের। বলতে পারেন ঘাসের কোর্টে এখন পর্যন্ত এটাই আমার সবচেয়ে ভাল সপ্তাহ।’

পিসকোভার বিপক্ষে সিবুলকোভার এটা দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৪ সালে কুয়ালালামপুরে সেমিফাইনালে পিসকোভার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। তাই চেক তারকাকে বেশ ভালই জানা ছিল তার। যে কারণে এবার ইস্টবোর্নে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি তাকে। দ্বিতীয়বারের মতো পিসকোভাকে হারিয়ে মৌসুমের দ্বিতীয় শিরোপাটাও নিজের শোকেসে তুলে নেন তিনি। ঘাসের কোর্টের এই শিরোপাকে বিশেষ বলেই মন্তব্য করেছেন সিবুলকোভা, ‘এটা আমার জন্য বিশেষ কারণ ঘাসের কোর্টের শিরোপা বলে কথা। তবে আমি কখনোই নিজেকে একজন ঘাসের কোর্টের খেলোয়াড় হিসেবে দেখিনি। ইস্টবোর্নে এমন দুর্দান্ত এক জয়ের পর আমার আত্মবিশ্বাস বহুগুণেই বেড়ে গেছে এবং অনুভূতিটাও খুব ভাল। তবে ফাইনালের আগের দিনও বলছিলাম, ঘাসের কোর্টের কঠিন এই টুর্নামেন্টে যে আমি জিতব তা বিশ্বাস করি না। কেননা এখানে টেনিসের শীর্ষসারির খেলোয়াড়রাই খেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু সফলভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবানই বলে মনে হচ্ছে।’ তবে গত মৌসুমে চোট পাওয়া সিবুলকোভাকে স্বরূপে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বছর চোট পাওয়ার পর কোর্টে আমি অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। যা আমাকে কোর্টে ফিরতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ে আমি ৬০ থেকে ৭০ নম্বরে অবস্থান করছিলাম এবং প্রথম পর্বে শীর্ষসারির খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতাম। আর সেই পর্যায়ে আপনাকে অবশ্যই ভাল খেলতে হবে। আর সবকিছু সঠিকভাবে করতে পারলেই আপনি ভাল খেলোয়াড়।’ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মৌসুমের তৃতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট উইম্বলডন। তার দিনকয়েক আগেই ইস্টবোর্নের শিরোপা জিতলেন সিবুলকোভ। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ফেবারিট তারকা সিবুলকোভা। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত সেটাই তার বড় অর্জন। উইম্বল্ডনে এবার কতদূর এগুতে পারবেন তিনি? ভক্ত-অনুরাগীদের সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে টুর্নামেন্টের ১৩০তম সংস্করণে এবারও ফেবারিট সেরেনা উইলিয়ামস। কেননা গত মৌসুমেও যে দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। চার গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের তিনটিতে চ্যাম্পিয়ন হন আমেরিকান কিংবদন্তি। কিন্তু প্রথম তিন মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপাজয়ী সেরেনা উইলিয়ামস বছরের শেষ গ্র্যান্ডসøাম ইউএস ওপেনেই থেমে যান। এরপর চলতি মৌসুমের দুই গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিলেও শিরোপার দেখা পাননি তিনি। বছরের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবারের কাছে হেরে যান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নম্বর ওয়ান। বছরের দ্বিতীয় মেজর টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালেও গারবিন মুগুরুজার কাছে হেরে যান সেরেনা। এর ফলে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে ২২টি গ্র্যান্ডসøামজয়ী স্টেফি গ্রাফের রেকর্ডে ভাগ বসানোর অপেক্ষাটা কেবলই দীর্ঘ হয় তার। তবে উইম্বলডনে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান সেরেনা। আমেরিকান টেনিস তারকার পর উইম্বল্ডনে এবার চোখ থাকবে সর্বশেষ দুই গ্র্যান্ডসøামজয়ী গারবিন মুগুরুজা এবং এ্যাঞ্জেলিক কারবারের উপর। আলাদা করে নজর থাকবে দুইবারের উইম্বল্ডন চ্যাম্পিয়ন পেত্রা কেভিতোভা, ক্যারোলিন ওজনিয়াকি এবং পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানাস্কার দিকেও। তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে ইউজেনি বাউচার্ড, সাবিনে লিসিকির মতো তারকারাও নিজেদের সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে উইম্বল্ডনের মিশন শুরু করবেন।