২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পানিবন্দী শতাধিক পরিবার


নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ২৮ জুন ॥ করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের পিটুয়া গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজন পানিবন্দী অবস্থায় প্রায় এক মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী অবৈধভাবে পানি নিষ্কাশনের শত বছরের রাস্তা (খালের নালা) বন্ধ করে দেয়ায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী সম্পত্তিসহ খাল জবরদখল করে স্থায়ী ইমারত (পাকা দোকানপাট) গড়ে তোলায় জলপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় পূর্ব পিটুয়া দশানিপাড়া গ্রামের পানিবন্দী শতাধিক পরিবারসহ আশপাশের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মুরগির খামার, ফসলি জমি ও গবাদিপশুর খাবার। রান্নাঘরে পানি উঠায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন পানিবন্দী লোকজন। কিন্তু খাল দখলকারীরা শক্তিশালী হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, শত বছরের প্রবাহমান একটি খালে মাটি ভরাট করে বন্ধ করে দিয়েছে একই গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে শাহাবউদ্দিন, জসিম উদ্দিন, কুতুব উদ্দিন ও হাসিম উদ্দিন গং। স্থানীয়রা জানায়, খালের ওই নালা দিয়ে শত বছর ধরে পানি প্রবাহিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে সম্প্রতি নালার সঙ্গে সংযোগ ইউড্রেনের মুখটিও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বসতঘরসহ তলিয়ে গেছে চারপাশ। প্রায় একমাস ধরে পানিবন্দী ওই গ্রামের হাজারো লোকজন। জলাদ্ধতার কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ায় বাড়ি থেকে অনেকেই বের হতে পারছেন না। রান্নাঘর পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সেহরির সময় খাবার রান্না করতে পারছেন না অনেকে। পানিবন্দী হওয়ায় মরে যাচ্ছে গাছপালা। জলাবদ্ধতায় ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। মল ভেসে উঠেছে পানিতে। এতে করে দূষিত হয়ে পড়েছে পরিবেশ। রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ।

পল্লী বিদ্যুতের সাবেক এলাকা পরিচালক ওবায়দুর রহিম ভূঁইয়া জানান, শত বছর ধরে ওই নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি খাল দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে নালাটি বন্ধ করে দেয় এলাকার কিছু লোকজন। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

করিমগঞ্জের ইউএনও আছমা আরা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, তিনি মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্তে সরকারী সম্পত্তি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। পরে তিনি ইউপি সচিব ও ভূমি সহকারীকে তাঁর দফতরে ডেকে পাঠিয়ে পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।