১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রামেক ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত উপকরণ ॥ তবু বঞ্চিত রোগীরা


স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোরে (ভা-ারে) চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি না থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয় বিভিন্ন ধরনের উপকরণ। বিশেষ করে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের এ চিত্র সবচেয়ে বেশি। এক্স-রে থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করানো হয় বাইরে থেকে অথচ হাসপাতালে এসব সেবা থাকলেও রোগীরা সহজে তা পায় না। প্রায় সব ওয়ার্ডেই একই চিত্র। অর্থোপেডিক এক নম্বর ওয়ার্ডের ৩২ বেডের রোগী বাসন্তি (৫৮) নিজেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এমএলএসএস। তাকেও পরপর দুইবার পটিবল এক্স-রে করার জন্য মেডিপ্যাথ থেকে মেশিন নিয়ে এসে করানো হয়েছে। এর জন্য প্রতিবার ব্যয় হয়েছে এক হাজার টাকা। ওই ওয়ার্ডের ইউনিট ওয়ানের চিকিৎসক রোগীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থাপত্র দেন অথচ রামেক হাসপাতালেই পটিবল এক্স-র মেশিন আছে। ওই ওয়ার্ডের ইউনিট ২-এর এক নম্বর বেডের রোগী শিশু নুর আলম (৯)। তাকে এক্স-র করতে পাঠানো হয়েছে নিউ গ্রীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রামেক হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের এমনই জগাখিচুড়ি অবস্থা। দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীদের নাজেহাল হওয়া প্রতিদিনের চিত্র। হাসপাতালের পুলিশ বক্স ও আনসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার পরেও রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন। রোগীদের অভিযোগ অনেক সময় ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট কর্তব্যরতদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট নাম করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্লাস্টার কেনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসা হবে না এমন ভয়ে রোগীরা নীরবে এসব মেনে নিচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট একের বেড নং ৩০। সেখানে শিশু শাওন (১০) চিকিৎসাধীন। জয়পুরহাট জেলার তিলপুর গ্রামের শিশু শাওন গত ১৫ মে ভর্তি হয়েছে। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৩০২/৪। অভাবী শাওনের পরিবারকে বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করে নিয়ে আসতে হয়েছে।

সাত বছরের শিশু হাসানুল। ২০ জুন রামেক হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট একে ভর্তি হয়েছে। সে রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচ-ি এলাকায় রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার এক্স-রে করানো হয়েছে বাইরে থেকে। এসব বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলাম জানান, পটিবল এক্স-রের বিষয়টি তিনি জানেন। রামেক হাসপাতালে যে পটিবল এক্স-রে আছে তা অনেক পুরাতন আর ভারি। সে কারণে যেসব রোগীর বিছানায় শুয়ে এক্স-রে করতে হয় তাদের বাইরে থেকে মেশিন নিয়ে এসে এক্স-রে করানো হয়।