১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জঙ্গী দমনের নামে বিএনপি নেতাকর্মী নিধন চলছে ॥ খালেদা জিয়া


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গী দমনের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিধন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সব হত্যাকা-ের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকেরাই জড়িত। আর এজন্যই প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। তিনি বলেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে টার্গেট করেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশীসহ এই যে এতগুলো মানুষকে হত্যা করা হলো তাদের হত্যাকরীদের মধ্যে একজনকেও ধরতে পারেনি সরকার। কেন ধরতে পারেনি? কারণ এসব হত্যাকা-ের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। অথচ বিদেশীদের দেখানোর জন্য সাঁড়াশি অভিযানের নামে হাজার হাজার মানুষকে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির অনেক নিরপরাধ নেতাকর্মী রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে যে অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই একই অপরাধে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু তা করা হচ্ছে না।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। জনগণের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের কাছে যেতে হবে, জনগণের সঙ্গে তাদের মিশতে হবে। তাহলেই জনগণের অধিকার আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। কেননা প্রধানমন্ত্রী মনে করেন বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারলেই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে। তিনি বলেন, সমঅধিকারের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সব মানুষের জীবন নিরাপদ নয়। যে কোন সময় যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে। খালেদা জিয়া বলেন, সাঁড়াশি অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের বেশিরভাগই অপরাধী ছিল না। বিএনপির তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সত্যিকার অপরাধীদের ধরলে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু অভিযানের নামে ঈদের আগে পুলিশ বাণিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছে। এ অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, বর্তমানে এমনও দেখা গেছে মসজিদের মাইকে আজান দিতে দেয়া হয় না। হিন্দুদের মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে। তাদের জমি দখল করছে। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। কারণ ছাত্রলীগ এসব ঘটনায় জড়িত। তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত মন্ত্রী-এমপিরাও হাজিরা দেন। অথচ তাদের নাকি পুলিশ খুঁজে পায় না। অথচ বিএনপির লোকদের ঘর থেকে আটক করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, দলের সিনিয়র নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডাঃ জাহিদ হোসেন, এ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিন, এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, দলের নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সানাউল্লাহ মিয়া, নিতাই রায় চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকার, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সালাউদ্দিন আহমেদ, আবুল বাশার, শিরিন সুলতানা, আবু সাঈদ খান, বজলুল বাসিত আনজু, ইউনুস মৃধা, মাহবুবুল হক নান্নু, শহিদুল আলম বাবুল, নাসিমা আক্তার কল্পনা, রফিক শিকদার প্রমুখ।

লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ঢাকা মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তিনি ইফতারের আগে টেবিলে টেবিলে ঘুরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, কল্যাণ পার্টির নেতা শহিদুর রহমান তামান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা আহসান হাবীব লিংকন, ন্যাপ ভাসানীর নেতা রুহুল আমীন, ন্যাপের শাহজাহান সাজু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতা আসাদুর রহমান প্রমুখ।

গণতন্ত্রহীনতার কারণে জনজীবন আতঙ্কিতÑ ড. মোশাররফ ॥ দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে জনজীবন চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিএনপিসহ বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন, অপহরণ ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে। সরকারের ক্ষমতায় থাকার অতিলোভ তাদের স্বৈরাচারী ও বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশের সর্বত্র এক শ্বাসরুদ্ধকর, অশান্ত ও অনিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান। কারও জানমালের নিরাপত্তা নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মোশাররফ বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘর থেকে বের হলে স্বজনরা উৎকণ্ঠায় থাকে। এ দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিকল্প নেই। দেশে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরির জন্য জাতীয় সংলাপের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ড. মোশাররফ।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ শাহিদুল হাসান বাবুলের সভাপতিত্বে ও মোঃ এনামুল হকের উপস্থাপনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেনÑ কৃষিবিদ ইব্রাহীম খলিল, অধ্যাপক ডাঃ আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক ড. নুরুল আমীন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আমিন খোকন প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: