১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের জনগণের নিজ নিজ পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ এবং মঙ্গোলিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।’ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মঙ্গোলিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত গোনচিং গ্যানবোল্ড সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। খবর বাসসর।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য মঙ্গোলীয় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত নানা সুযোগ-সুবিধার কথাও এ সময় প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। এ সময় মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পাট এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী তাদের দেশে আমদানি করে থাকে বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় পাট ও ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী ছাড়াও বাংলাদেশে থেকে বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে খাদ্য সামগ্রী আমদানিতে এগিয়ে আসার জন্য মঙ্গোলীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ১১তম এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (এএসইএম)’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে এই বৈঠকের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় মঙ্গোলীয় রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সে দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

মঙ্গোলীয় রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশ এবং মঙ্গোলিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে আগামীতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মঙ্গোলিয়ার অনুষ্ঠিতব্য ‘এএসইএম’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমরা (মঙ্গোলীয় সরকার) অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে আগামী ১৫ এবং ১৬ জুলাই বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সম্মেলন ১১তম এশিয়া-ইউরোপ মিটিং অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বাস হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিটোল-নিলয় গ্রুপের সৌজন্যে নগরীর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে চারটি বাস হস্তান্তর করেছেন।

টিকাটুলী এলাকার শের-ই-বাংলা গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং আজিমপুর গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের কাছে বাস হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুটি করে বাস পেয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে ৩৬ আসনের বাসের চাবি হস্তান্তর করেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসেন, নিটোল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নিটোল-নিলয় গ্রুপের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষার্থীরা যাতে খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে সে ব্যাপারে খেলার মাঠের সুযোগ রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

শেখ হাসিনা শের-ই-বাংলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি আজিমপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীরা যাতে দীর্ঘদিন বাসগুলোর সেবা নিতে পারে এজন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বাসগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: