১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদের ছুটিতে সরকারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগ খোলা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সরকারী ছুটির সময় সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা জরুরী বিভাগ খোলা থাকবে। এছাড়া ঈদের দিন, পবিত্র শব-ই-কদরের পরদিন এবং দুই শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগের চিকিৎসা সেবা চালু থাকবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঈদের ছুটির সময় দেশের সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এতে সভাপতিত্ব করেন। স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটার চালু থাকবে। বিশেষ টিম চিকিৎসাসেবা তদারকি করবে। রোজার ঈদকে সামনে রেখে শব-ই- কদরের পরদিন আগামী ৪ জুলাই সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে টানা নয় দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারী চাকরিজীবীরা।

ঈদের ছুটির সময় সরকারী হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা অব্যাহত আছে কিনা তা তদারকি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে দুটি পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। সভায় দেশের সকল সরকারী হাসপাতালে সরকারী ছুটির দিনে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, চিকিৎসক, নার্স এবং সুসজ্জিত এ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিক্যাল চিকিৎসা সেবা প্রদানের সরঞ্জামাদি মজুদ এবং মহাসড়ক, রেল ও নৌ-পথে আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জরুরী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক, ওষুধপত্র ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখার জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে চিকিৎসকগণকে রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, ওষুধ প্রশাসনের অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং দেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সামিউল ইসলাম সাদি বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠকে জানান, ঈদের ছুটিতে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যেক সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এছাড়া প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী রোস্টার তৈরি করতে বলা হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ডাক্তার, নার্স ও সুসজ্জিত এ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিক্যাল টিম নিয়োজিতকরণসহ প্রাথমিক চিকিৎসার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার সিজিন সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সামিউল ইসলাম সাদি।

এবার ঈদ উপলক্ষে ৯ দিনের সরকারী ছুটি থাকবে। তবে ঈদের বেশ আগেই ছুটি নেয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। ঈদের পরেও হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা ছুটিতে থাকবেন। কমে যাবে জনবল। আর জনবল কমে গেলে সরকারী হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। এমন সব অভিযোগ উত্থাপন করলে রাজধানীর সরকারী হাসপাতালগুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদের ছুটিতেও স্বাভাবিক চিকিৎসেবা অব্যাহত থাকবে। ঈদের ছুটির মধ্যেও রোগীদের স্বাভাবিক সেবা দিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধের দিনগুলোতে রোগীদের সুবিধার্থে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের ইনডোর সেবাসমূহ ও বিভিন্ন জরুরী বিভাগসমূহ যথারীতি চলবে। বন্ধের দিনগুলোতে বিভিন্ন বিভাগের ওয়ার্ডসমূহে এবং কেবিনগুলোতে যাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকেন সেজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ছুটির সময়েও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বহির্বিভাগ রোগীদের সুবিধার্থে আগামী ৫ জুলাই সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস, অফিস ও হাসপাতালের বৈকালিক স্পেশালাইজড কানসালটেশন সার্ভিস বন্ধ থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান আগামী ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বহির্বিভাগ খোলা রাখার জন্য বিএসএমএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানগণকে নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল হান্নান।

স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চালু রাখার কথা জানিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মিজানুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে। স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটার চালু থাকবে। বিশেষ টিম চিকিৎসাসেবা তদারকি করবে। তিনি স্বীকার করেন, ঈদে কিছুসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে যেতে পারেন। কিন্তু এমন অবস্থার প্রেক্ষিতেই চিকিৎসাসেবার কৌশল সাজানো হয়েছে বলে তিনি জানান। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে নগরীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও (মিটফোর্ড হাসপাতাল)। ওই হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটিতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা করে রেখেছি আমরা। ওই সময় চিকিৎসকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। তবে এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ঈদের ছুটিতে আমাদের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কম থাকতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এখানে দৈনিক ৯শ’ রোগী চিকিৎসা নেয়। ঈদের ছুটিতে এ সংখ্যা ৪শ’তে নেমে আসে। তাই ছুটিতে চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকলেও স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যাহত হবে না। তাছাড়া এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক রোস্টার তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শেরে বাংলা নগরের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, ঈদে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমে যায়। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা একটু কম হলেও রোস্টার তৈরি করার কারণে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় না। তবে বহির্বিভাগে বেশি রোগী দেখা হয় না। এছাড়া হাসপাতালের অন্য সব কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া। রাজধানীর অন্য সব সরকারী হাসপাতালেও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: