২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমপির রোষানলে দুই আ’লীগ নেতা!


এমপির রোষানলে দুই আ’লীগ নেতা!

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটিয়া ॥ সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধীতার ইস্যু তুলে চট্টগ্রামের পটিয়ার এমপির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রাশেদ মনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। এমপি সামশুল হক চৌধুরী ইতোমধ্যে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে ওই দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে ও কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দিতেও বলেছেন বলে সর্বত্র গুঞ্জন ওঠেছে। এদের দুইজনকে দাওয়াত দেওয়ার কারণে পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল প্রথমবার স্থগিত হয়ে দুইদিন পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌরসভা আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে এমপি সামশুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি রাশেদ মনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। তবে অপর একটি সূত্র বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের এই দুই শীর্ষ নেতার পছন্দের লোককে বাদ দিয়ে এমপি কিছু অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও নালিশ করা হয়েছিল।

দলীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামশুল হক চৌধুরী পটিয়া থেকে দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৪ সালে তৃণমূল ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন রাশেদ মনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। নাসির উদ্দিনের বাড়ি এমপি সামশুল হক চৌধুরীর গ্রাম শোভনদন্ডীতে। গত ২৮ মে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান এমপি। ফলে শোভনদন্ডীতে যুবলীগ নেতা এহসানুল হককে দলীয় প্রার্থী করা হয়। অপর দিকে, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রাশেদ মনোয়ারের বাড়ি বড়লিয়া ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম শানুকে বাদ দিয়ে রাশেদ মনোয়ার তাদের এলাকার ব্যাংকার ছৈয়দ নুরুল আবছারকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনে শোভনদন্ডী ও বড়লিয়া ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এতে নাসিরের ভাই যুবলীগ নেতা মো. এরশাদ আহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দলীয় প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার ইস্যুতে বর্তমানে পটিয়ার এমপির রোষানলে পড়েছেন রাশেদ মনোয়ার ও নাসির উদ্দিন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, দলের দু:সময়ে আমরা সবসময় ছিলাম। ইউপি নির্বাচনের পূর্বে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রার্থীদের যে তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছিল তা কারচুপির মাধ্যমে পরে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। যারা বাণিজ্য করে এ কাজ করেছে তারা দল ও জাতির শত্রু। তারপরও তিনি (নাসির) দলীয় প্রতীকের বিরোধীতা করেনি। তাদের দুইজনকে ইফতারের দাওয়াত দেওয়ার কারণে এমপির চাপে পড়ে পৌরসভা আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি স্থগিত করার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে চলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: