২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হাজীগঞ্জে ১ স্কুলে ১ শিক্ষক, ৬টিতে ১২ শিক্ষক


সংবাদদাতা, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) ॥ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো কার্যক্রম চলছে ১ জন শিক্ষক দিয়ে। আরো ৬টি বিদ্যালয়ে ২ জন করে ১২ জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে পদ থাকলেও এ বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে কেউ যেতে চায় না বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক শিক্ষক অফিস আদেশকে কাটিয়ে নিচ্ছেন বলেও সূত্রে জানা গেছে। চরম শিক্ষক স্বল্পতার কারণে উপজেলার এ ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৪ জন করে শিক্ষক থাকার কথা।

হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের চারিয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন ১ জন শিক্ষক। এছাড়া ২ জন করে শিক্ষক রয়েছেন উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সমেশপুর সপ্রাবি, ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া সপ্রাবি, কালোচোঁ উত্তর ইউনিয়নের চিলাচোঁ সপ্রাবি, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর শ্যামলী গুচ্ছগ্রাম সপ্রাবি, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের সর্বতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে ১৫শ' বিদ্যালয় সরকারিকরণের সাথে চারিয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ৪ রুম বিশিষ্ট ভবনের একটি রুমে অফিস কার্যক্রম চলে। শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১শ' ১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও একমাত্র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদ হাছান মোস্তফা। তার নিজেরই ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অফিস ম্যান্টেন, উপজেলা সদরে দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।

উপরোক্ত বিদ্যালয়গুলোতে ২ জন করে শিক্ষক পাঠদানের দায়িত্বে থাকলেও দু জনকে দিয়ে সকল ক্লাস করা দুরূহ বলে অভিভাবকরা নিশ্চিত করেন। ঐ সকল বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানান, স্যারেরা এতো ছেলে-মেয়েকে সামলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শিশু শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণী পর্যন্ত তিনটি ক্লাস একত্রে শুরু হলে দু' জন শিক্ষক কিভাবে ক্লাস সামলাবেন ? ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসগুলো দুপুর থেকে শুরু হয়ে চালু হলেও দু' জন শিক্ষক কিভাবে সামলান তা আমরা বুঝি না। আবার একদিন কোনো শিক্ষক ছুটি নিলে বা অসুস্থ হয়ে গেলে সেদিনের অবস্থা তো সহজে অনুমেয়।

চারিয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাছান মোস্তফা বলেন, আমাকেই পতাকা টানানো-নামানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, শ্রেণী কক্ষের পাঠদানসহ সকল কাজ করতে হচ্ছে।

অপরদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য পদ অনেক রয়েছে। পদ খালি থাকলেও শিক্ষক স্বল্পতার দিক দিয়ে উপরোক্ত বিদ্যালয়গুলো রয়েছে শীর্ষে।

উপজেলা কয়েকটি বিদ্যালয়ে দু' জন কিংবা একজন করে শিক্ষক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক পাঠানো হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: