২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সংঘাত নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ॥ সাংবাদিক সম্মেলন


শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সংঘাত নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ॥ সাংবাদিক সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ শান্তিপুর গ্রামের ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবারের নারী-পুরুষ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তাদের নিরাপত্তার দাবিতে এবং ফের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে ভূমালিদের অংশগ্রহনের মতো তুচ্ছ ঘটনার রেশ ধরে একই সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ২৫ জুন বিকেলে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত আটজন জখম হয়। এরমধ্যে পংকজ তালুকদার নামের একজনের অবস্থা শঙ্কটজনক। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় দিলীপ ডাকুয়া বাদী হয়ে ১১ জনকে এবং আশুতোষ তালুকদার বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় পৃথক মামলা করেছেন। এরপর থেকে গ্রামটিতে ৩০টি পরিবারের পুরুষ মানুষ রাতের বেলা বাড়ি ছাড়া থাকছে পুলিশি আতঙ্কে। মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাবু রাজেশ^র তালুকদার। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানান, বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ২২ জুন তাদের গ্রামের যুবক বিকাশ মারা যায়। এর জন্য সকল শ্রেণির মানুষ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ২৫ জুন। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে দুইজন কিশোর বয়সের ভূমালি অংশ নেয়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে বর্নবাদী উষ্কানি দিয়ে মনোরঞ্জন হাওলাদার ও সন্তোষ ডাকুয়া শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয়। এরপর অনুষ্ঠানের পরে সংঘাতের সৃষ্টি করে। ভূমালির সমর্থকদের বেপরোয়া মারধর করা হয়। মারাত্মক সংঘাতে গুরুতর জখম হয় অন্তত চার জন। এরপর পরের দিন ফের শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমতলী পৌরসভার পিওন শিলা রানী বিশ^াস ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে ২৬ জুন আরেক দফা হামলা চালায়। বয়োবৃদ্ধা পুষ্প রাণী জানান, তার ছেলে টেইলরিংএর কাজ কওে তাকে দোকান থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে। এখন দোকান বন্ধ রয়েছে। তাকেও ঘর থেকে টেনে-হিচড়ে মারধর করা হয়েছে। তারা এখন সবাই রয়েছেন আতঙ্কে। ফের হামলার শঙ্কায় সবাই রয়েছেন আতঙ্কে। উপস্থিত মহিলারা জানান, পুরুষ লোকজন রাতের বেলা এখন আর বাড়িতে থাকে না। পালিয়ে অন্যত্র থাকছে। ফের হামলা-মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত নৃপেন্দ্র নাথ হাওলাদার, সুকুমার চন্দ্র দাস, যতীন চন্দ্র হাওলাদার, বাদল চন্দ্র শীল, হাসি রাণী, ছায়া রানী, সুমিত্রা, সুচিত্রা রাণী, মায়া রাণীসহ ৩০টি পরিবারের সবাই এখন শীলা রাণী বিশ^াস আতঙ্কে রয়েছেন। তাদেও দাবি সমাজের কথিত নিয়ন্ত্রকরা তাদেরকে এমন দুরাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তারা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। দোষীদের গ্রেফতার এবং তাদের পুর্ণ নিরাপত্তা চেয়েছেন। কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, শান্তিপুর গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্দোষ কারও আতঙ্কিত হওয়ার কারন নেই। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: