মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পরীক্ষায় পাস করেও প্রতিবন্ধী বলে জুটছে না চাকরি

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৬

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ চাকরির জন্য কয়েকবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কাউচার বেগম। লিখিত পরীক্ষায় পাসও করেছিলেন। প্রতিবারই শারীরিক প্রতিবন্ধিতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পরও প্রতিবন্ধীতার কারণে চাকরি তার কপালে জুটেনি আজও। এখনও বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা দিয়ে চলছেন। একটি চাকরি করবেন, বাবার অভাবী সংসারের হাল ধরবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে কক্সবাজারের চকরিয়ার ঢেমুশিয়া খাঁস পাড়ার নুরুল ইসলামের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষিত মেয়ে কাউচার বেগম।

কাউচার সাফল্যের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে চকরিয়া বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ থেকে ডিগ্রী পরীক্ষা দিয়েছে। কাউচার বেগম জানান, তিনি রেজিস্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তার চাকরি হয়নি। আবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি হয়নি।

মা মুরশিদা বেগম জানান, কাউচার বেগমের বয়স যখন সাত বছর তখন হঠাৎ মাটিতে পড়ে ডান পায়ে আঘাত পায়। চিকিৎসার পরও সম্পূর্ণ ভাল হয়নি। তার মা মুর্শিদা বেগম আরও জানান, যা সম্বল ছিল, সব কিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি মেয়েকে ভাল করতে। এখন আমার মেয়ের পায়ে ব্যথা ও পা ছোট হয়ে গেছে। তাই তার হাঁটতে সমস্যা হয়। ডাঃ বলেছেন ক্রাচ নিয়ে হাঁটতে হবে সারাজীবন। পরিবারে সহযোগিতার জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি চাকরির জন্য সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে লিখিত পরীক্ষায় টিকেও শেষে চাকরি হয় না। শুধু আমার শারীরিক প্রতিবন্ধীতাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ও পরবর্তী বিধি মালা পাশ হওয়ায় আশার আলো দেখছেন তিনি। কয়েকটি পরীক্ষায় পাস হওয়ার পর চাকরি হয়নি তাতে কী, কাউচার বেগম একবারে হাল ছাড়েনি।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৬

২৮/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: