২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আবার বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু


রাজন ভট্টাচার্য ॥ প্রায় আড়াই বছর পর ফের শুরু হয়েছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির উপনেতা নির্বাচনের তৎপরতা। এবার বিরোধী দলের নেতা রওশনের ইচ্ছেমতোই উপনেতা নির্বাচন হচ্ছে! সোমবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে এ বিষয়ে কথা বলেছেন রওশন। উপনেতা হিসেবে প্রস্তাব করেছেন দলের কাজী ফিরোজ রশিদের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রওশনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই যে কোন সময় বিরোধী দলের উপনেতার ডাক পেতে পারেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ কাজী ফিরোজ। যদিও উপনেতার পদে কাকে নির্বাচন করা হবে এ নিয়ে রওশন ও এরশাদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে দুই বছর ধরে। মূলত দলের শীর্ষ এই দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে সংসদের অর্ধেক মেয়াদ শেষ হতে চললেও পদটি পূরণ সম্ভব হয়নি। তাছাড়া উপনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম বৈঠক কিংবা সংসদীয় দলের বৈঠকে এরকম কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একাধিকবার বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়ে পিছু হঠতে হয়েছে রওশনকে। এই পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করে এরশাদ ও রওশন পাল্টাপাল্টি চিঠি দিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকারের কাছে। এরশাদের পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন দলের সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। পরবর্তী সময়ে এরশাদ যাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পদচ্যুত করেন। আর রওশনের পছন্দের তালিকার ফিরোজ রশীদ। কিন্তু কোন চিঠিই নিয়ম অনুযায়ী না হওয়ায় পুরো বিষয়টিই ঝুলে আছে দিনের পর দিন। দলের সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় কাউন্সিলে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে বিরোধী মিটলেও উপনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়াটি দলীয় সিদ্ধান্ত কিনা এ নিয়ে কোন পক্ষ থেকেই পরিষ্কার কোন বক্তব্য মেলেনি। তবে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় ফোরাম অর্থাৎ প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বোপরী সংসদীয় দলের বৈঠকে এমন কোন সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি। জাতীয় পার্টির একাধিক প্রেসিডিয়ামের সদস্য বলছেন, এরশাদের গুড লিস্টে নেই বাবলু। বিকল্প উপনেতা হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে এরশাদের পছন্দের কোন ব্যক্তির নামও শোনা যায়নি। এ কারণে রওশনের প্রস্তাবকে সমর্থন দিতে পারেন এরশাদ নিজেও। এদিকে দলের নির্বাচিত ৪০ সাংসদের বেশিরভাগই রওশনের অনুসারি। তাই রওশন ইচ্ছে করলে এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারেন এমন কথাও বলছেন জাপার সাংসদরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আটমাস পর উপনেতা ঠিক করতে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে প্রথম দ্বন্দ্ব বাধে। তখন অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন দলের এই দুই শীর্ষ নেতা। উপনেতা চূড়ান্ত করতে অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে দলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করতে চাপ সৃষ্টি করেন রওশন। প্রক্রিয়া ঠেকাতে এরশাদ সংসদ সদস্যদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

জাপার প্রভাবশালী একাধিক নেতা জনকণ্ঠকে বলেছেন, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিরোধী দলের উপনেতা ঠিক করতে দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠক ও সংসদীয় দলের বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে। উভয় বৈঠকে এই পদের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করা হয়। যেহেতু এখনও বৈঠক হয়নি, তাই কারও নাম প্রস্তাবের বিষয় নেই।

বাস্তবতা হলো ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিয়ে এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এমপি হওয়ার আশায় এরশাদের নির্দেশ অমান্য করে পরীক্ষিত বেশিরভাগ নেতাই রওশনের সঙ্গে গিয়ে হাত মেলান। রওশনের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন অনেকে। বর্তমানে ৪০ জন সাংসদ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের পর নিঃশর্ত ক্ষমার ঘোষণা দিয়ে নির্দেশ অমান্যকারী নেতাদের মূল ধারায় ফিরে আসতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন দল প্রধান। এতে সাড়া মেলেনি। বেশিরভাগ নির্বাচিত সংসদ সদস্যই এখনও রওশনের অনুসারী। নির্বাচনের পর সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য নাম প্রস্তাব নিয়ে এরশাদ-রওশনের মধ্যে এক মাসের বেশি দ্বন্দ্ব চলে। একাধিক তালিকা দেয়া হয় তাদের দু’জনের পক্ষ থেকে।

এরপর নিয়ম না মেনে ফিরোজ রশিদকে উপনেতা করতে চেয়েছিলেন রওশন এরশাদ। বিরোধী দলীয় উপনেতা মনোনয়নে আইন ও রেওয়াজ ভাঙ্গায় রওশন এরশাদের দেয়া চিঠি তখন গ্রহণ করেননি স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০১৪ সালের গত ২৭ জুলাই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য স্পীকারকে চিঠি দেন রওশন এরশাদ। পরে এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ জানান, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতার পদে জাতীয় পার্টি থেকে কাউকে নির্বাচন করা হয়নি। এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তও নেয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী স্পীকার তার বিবেচনা মতে বিরোধী দলীয় উপনেতা ঠিক করে থাকেন। তখন একদিনে ২০ জনের বেশি সাংসদের স্বাক্ষর নিয়ে স্পীকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছিল বিরোধী দলের নেতার পক্ষ থেকে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচন করে রওশন এরশাদ যে চিঠি দিয়েছেন তাতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের কোন বৈঠকের সিদ্ধান্ত কি না তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।