১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হোক না কেন দেশের অগ্রগতি থেমে যাবে না


সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আর্থিকখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশ আজ যখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে ঠিক তখন সবক্ষেত্রে ব্যর্থ ও জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বিএনপি-জামায়াত জোট দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, গুপ্তহত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে দেশবিরোধী যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করা হোক না কেন, দেশের জনগণ তা বাস্তবায়িত হতে দেবে না। কোন ষড়যন্ত্রই শেখ হাসিনার অগ্রগতিতে থামাতে পারবে না।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সোমবার বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের ডা. দীপু মনি, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম রহমতউল্লাহ, সাগুফতা ইয়াসমীন, মুহিবুর রহমান মানিক, শেখ হাফিজুর রহমান, খন্দকার আবদুল বাতেন, আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ দুলাল, নূরজাহান বেগম, কামরুন নাহার চৌধুরী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, ঊষাতন তালুকদার, আবদুল মতিন এবং বিরোধী দলের চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আমির হোসেন ও মেরিনা রহমান। আলোচনা শেষে সংসদ অধিবেশন আজ মঙ্গলবার সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জনঘনত্ব বেশি এবং কৃষি জমি কমের দেশ বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের একটি বিস্ময়কর সাফল্যে। খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ তিরস্কৃত হয় আর শেখ হাসিনা বিশ্ব থেকে পুরস্কার আনেন। মেট্রোরেল, পাতাল রেল, পদ্মা সেতু, বুলেটে ট্রেন কোনকিছুই এখন বাংলাদেশে স্বপ্ন নয়, বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। তিনি শিল্পখাতের উন্নয়নে পোশাক শিল্পের আরোপিত উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, যখন জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে তখনই বিএনপি-জামায়াত গুপ্তহত্যা শুরু করেছে। ইফতারের সময় মিথ্যাচার করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ কোন জেনারেলের পকেট থেকে জন্ম নেয়নি। দেশে কিছু সুশীল সমাজ আছে যারা সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা জঙ্গীবাদ দমন, রামপালে বিদ্যুত উৎপাদন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও বাধা দেন। তাই দেশী-বিদেশী শক্তি যতই ষড়যন্ত্র বা বাধা দিক না কেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা দেশকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে যাবেনই।

বিরোধী দলের চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রস্তাবিত ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, সীমিত সম্পদের এদেশে সরকারকে ঘাটতি মেটাতে অনেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বাজেটে বিনিয়োগের জন্য কোন সুখবর নেই। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী শেয়ার বাজারকে ফটকাবাজি বলেন। লুটপাটের ব্যাপারে তদন্ত হয়, কিন্তু কোন বিচার হয় না। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ব্যাংকিংখাত থেকে সাগর চুরি হয়েছে। বিদেশে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, সেটা বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুণ্ঠন হলো। আমরা কীভাবে ওই টাকা ফেরত পাব সে ব্যাপারে বাজেটে কোন কথাই নেই। আমরা চাই এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। আর আর্থিক খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে না পারলে এই বাজেট বাস্তবায়নের কোন সম্ভাবনা নেই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত হওয়া উচিত মন্তব্য করে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, একজন সামরিক শাসকের স্ত্রী, আবার সাবেক বিরোধী দলের নেতাও। অথচ তাঁর কথাবার্তায় কোন শালীনতা নেই। তাঁর এই ধরনের আচরণের কারণে আরাফাত রহমান কোকো হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতির ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। আর যদি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকে তার দায়দায়িত্ব খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে। কারণ তাঁর ছেলেদের লালন-পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেহনতি মানুষের অর্থ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দুই ছেলের একজনকে মাদকাসক্ত, আরেকজন ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবন করে বাংলাদেশের সম্পদ লুটতরাজ করেছেন। দেশের টাকা বাইরে পাচার করেছে। সেটা আদালতে প্রমাণিত। এই তারেক রহমান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছেন। গণহত্যা চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। পলাতক হয়ে বিদেশে বসে সে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশবিরোধী যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করা হোক না কেন, দেশের জনগণ তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। কোন ষড়যন্ত্রই শেখ হাসিনার অগ্রগতিকে থামাতে পারবে না।

সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। দেশ আরও এগিয়ে যাবে। কারণ তিনি এখন সারাবিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। কারণ এখন আমেরিকাতেও চিন্তা করা হয় একজন নারী প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিলে দেশ চালাতে পারবেন কি না? কিন্তু এটা আমাদের দেশে চিন্তা করতে হয় না। তিনি অর্থমন্ত্রীকে আমলতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ, বহুল আকাক্সিক্ষত পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা’ সেতু, নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বিশাল চরে অবকাঠামো নির্মাণ এবং বেদে সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: