১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং


প্রযুক্তি বিশ্বের এখন সবচেয়ে দামী খবর ২৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে লিঙ্কডইন কিনে নিয়েছে মাইক্রোসফট। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল লিঙ্কডইন। পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট হিসেবে গণ্য করা হয় এই সাইটটিকে। এ বছরের মার্চের তথ্য অনুযায়ী লিঙ্কডইনে ৪৩৩ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। যাদের মধ্যে ১০৬ মিলিয়ন ব্যবহারকারী সক্রিয়। বিশ্বের ২৪টি ভাষায় লিঙ্কডইনের ওয়েবসাইট রয়েছে। পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হওয়ায় ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের অবাধ আনাগোনা এখানে। এই সোশ্যাল প্লাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো, এদের সবাইকে একটি স্থানে আনা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি। তাই যে কোন পেশার মানুষের জন্যে লিঙ্কডইন একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ধুরা আসুন জেনে নেই লিঙ্কডইন নিয়ে কিছু তথ্য। লিঙ্কডইন = লিঙ্ক+ইন, ‘ইন’ মানে ভেতরে আর ‘লিঙ্ক’ মানে সংযুক্তি বা সংযোগ। তার মানে যার ভেতরে গেলে লিঙ্ক আছে তাকেই লিঙ্কডইন বলে, বন্ধুরা ঠিক তাই লিঙ্কডইন অনেকটা ওই রকমই। লিঙ্কডইনে প্রায় ৪৩৩ মিলিয়ন এর বেশি বন্ধু আপনাকে জানার অপেক্ষায় আছে। লিঙ্কডইন অনেকটা ফেসবুকের মতোই। ফেসবুকে যেমন কোথায় খাচ্ছেন, ঘুরছেন এসব শেয়ার করা যায়, ঠিক তেমনি লিঙ্কডইনে কোথায় কাজ করছেন, কি করছেন, নতুন কি করলেন সেগুলো দেয়া যায়, নোট পাবলিশ করা যায়। তাছাড়া যে কোন পোস্ট কেউ লাইক, শেয়ার বা কমেন্ট করলে সেটা তার প্রোফাইলেও যারা যুক্ত আছে তাদের হোমপেজে চলে যাবে। আপনি বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকেন না কেন লিঙ্কডইন এর মাধ্যমে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান আপনাকে ঠিকই বের করে নেবে। উন্নত দেশসমূহে সবাই লিঙ্কডইন এর মাধ্যমে তার মনের মতো চাকরি খুঁজে নিচ্ছে। লিঙ্কডইন আপনাকে বলে দেবে আপনার আসলে কোন কোন চাকরির জন্য আবেদন করা দরকার। কোথাও আবেদন করার সময় ওই কোম্পানি কেমন, কারা ওই কোম্পানিতে চাকরি করছেন ইত্যাদি নানা তথ্য পাবেন লিঙ্কডইনে। সবচেয়ে মজার কথা হলো আপনার ভাল কাজের জন্য আপনাকে আপনার কলিগ বা বস রেকমেন্ড করতে পারবেন লিঙ্কডইন মাধ্যমে যা কিনা আপনাকে পরবর্তী চাকরি পেতে অনেক সাহায্য করবে। মূলত নিজেকে তুলে ধরা যায় লিঙ্কডইনের মাধ্যমে।

এখন আসা যাক কিভাবে তৈরি করবেন আকর্ষণীয় লিঙ্কডইন। প্রথম ধাপ যেহেতু এটি অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিন্ন এবং প্রফেশনাল, তাই এখানকার প্রোফাইলে এমন ইমেজ ব্যবহার করুন, যাতে আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। আপনার লিঙ্কডইন প্রোফাইলের হেডলাইনটি অত্যন্ত জরুরী, কারণ হেডলাইন দেখেই কিন্তু আপনাকে অন্যরা খুঁজে নেবে। তাই এমন হেডলাইন লিখুন, যা আপনার পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরকে আকৃষ্ট করবে। হেডলাইনটি হবে সংক্ষিপ্ত, বর্ণনামূলক, প্রভাব বিস্তারকারী এবং অবশ্যই স্মার্ট। লিঙ্কডইন আপনার সম্পর্কে জানতে চাইবে। কি কি কাজ জানেন বা কি করতে চান জানাতে হবে। আপনার মিশনও ভিসন স্টেটমেন্ট লিখুন। লিঙ্কডইন আপনকে দিচ্ছে আপনার যে কোন ভিডিও ব্লগ, ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন আপলোড করার সুযোগ। নিজের সিভিটি এখানে আপলোড করে রাখতে পারেন।

দ্বিতীয়ধাপ, আপনার যদি চাকরি ক্ষেত্রে এক্সপেরিয়েন্স থাকে তবে তা দিতে হবে , ঠিক যেমন তৈরি করেছেন সিভিতে।

কপি পেস্ট করে বসিয়ে দিন, কনট্রোল সি ও কনট্রোল ভি এর মাধ্যমে। যারা ফ্রেশার তারা ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল

ভিসিট, মেম্বারশিপের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার ঘরটি পূরণ করুন। কো-কারিকুলাম এ্যাক্টিভিটিজের মাধ্যমে আপনি কোন

কোন কাজে অভিজ্ঞ ফুটিয়ে তুলুন। কোন কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন বা কোন কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন

অল্পকিছু দিনের জন্য সেটাও বসানোর সুযোগ আছে লিঙ্কডইনে।

তৃতীয় ধাপ হচ্ছে এন্ডোর্সমেন্ট ব্যাপারটা অনেকটা ভোটের মতো। আপনি এখানে আপনার ৫০টি স্কিলের নাম বলবেন।

আপনার সবচেয়ে ভাল ১০টি স্কিল লিঙ্কডইন দেখাবে। আপনার সঙ্গে যারা কানেক্টেড হবেন তারাই বলে দেবেন যে

আপনি যে দক্ষতাটি উল্লেখ করেছেন আসলে আপনি ওই ব্যাপারে কতটা দক্ষ। অবশ্যই লিঙ্কডইনে এন্ডোর্সমেন্ট

বাড়াবেন যাতে অন্যরা আপনার প্রোফাইল দেখে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পায়।

চতুর্থ ধাপে আপনি জানিয়ে দিন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভি থেকে এক এক করে সবগুলো বসিয়ে নিন। সার্টিফিকেট চাইলে স্কান করে যুক্ত করে দিতে পারেন। প্রফেশনাল সার্টিফিকেট যুক্ত করা ভাল।

পঞ্চম ধাপে প্রকাশনা, আপনার কোন লেখা, কোন জার্নাল ছাপা হয়ে থাকলে লিঙ্কসহ সেটিও দিয়ে দিন। মজার বিষয়

হচ্ছে, আপনি যখন প্রোফাইল সাজাবেন তখন লিঙ্কডইন নিজেই আপনাকে অনেক নির্দেশনা দেবে।

সঙ্গে কোন ট্রেনিং করে থাকলে সিভি থেকে তা এক এক করে লিখে নিন। আর আপনার যদি জিআরই, আইইএলটিএস,

টোফেল দেয়া থাকে তবে তার স্কোর দিতে পারেন। যুক্ত করতে পারেন সার্টিফিকেটও। আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি

কোন কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন যেমন সমাজসেবামূলক কাজ, কোন খেলাধুলা, স্কাউট, বিতর্ক ইত্যাদি, সেগুলো উল্লেখ করতে পারেন। তাছাড়া কোন ক্লাবের মেম্বার, কোন দলের সভাপতি। সেই সার্টিফিকেটগুলো এখানে তুলে ধরতে পারবেন। প্রথমে সিভি তৈরি করুন, তারপর লিঙ্কডইন, তারপর জব পোর্টালে সিভি আপলোড দিন। লিঙ্কডইন প্রোফাইল পাবলিক করে রাখুন। কাজ করেছেন, সেটা লোকে জানুক। খরহশবফরহ ঘবঃড়িৎশ এর পর আপনার ব্যক্তিগত ইমেইল আইডিগুলো থেকে সার্চ দিয়ে যাদের কে পাওয়া যাচ্ছে, তাদের এ্যাড করুন। নেটওয়ার্ক থেকে কন্টাঙ্কস এ গিয়ে এই পদ্ধতিতে তাদের খুঁজে বের করুন। আপনার ক্লাস মেট ও কলিগরা, যারা লিঙ্কড ইন এ আছে, তাদের কে খুঁজে এড করুন। ইনভাইটেশন পাঠান নিয়মিত, তবে যখনই আপনি কাওকে ইনভাইটেশন পাঠাবেন, অবশ্যই তার সঙ্গে আপনার ব্যাপারে ছোট করে হলেও একটি নোট পাঠাতে ভুলবেন না যেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে লিঙ্কডইন সক্রিয় থাকব উত্তরটা খুব সহজ এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার এক্সপার্ট রা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন আর্টিকেল পোস্ট করে থাকেন, সেগুলো পড়বেন, অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট করবেন তাছাড়া ধারাবাহিকভাবে আপনার স্ট্যাটাস আপডেট করুন খেয়াল করলে দেখবেন যে আপনি যখনই লিঙ্কড ইনে লগ ইন করবেন, দেখবেন তাদের কেই হোম ফিড এ দেখা যাচ্ছে, যারা নিয়মিত স্ট্যাটাস আপডেট করছেন। যারাই এক্টিভ থাকছেন, তাদের কেই হোম ফিডে দেখানো হয়। আর এটিই হচ্ছে সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী উপায় সবার সঙ্গে কানেক্টেড থাকার। রেগুলার খরহশবফওহ এৎড়ঁঢ় উরংপঁংংরড়হং এ অংশগ্রহণ করুন, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিন। ক্রমাগত সংযোগ তৈরি করুন চোখ রাখুন ‘ৎবারবি যিড়স ুড়ঁ সধু শহড়’ি এবং চবড়ঢ়ষব ণড়ঁ গধু কহড়ি এর দিকে, এবং ইনভাইটেশন পাঠান সেই কানেকশনগুলোতে।

পরিশেষে বিংশ শতকে এসে পৃথিবী পাল্টে গেছে অনেক। পাঁচ বছর আগের গল্প দিয়ে চাকরি পাওয়া কঠিন এখন। আর যারা দেবে চাকরি, তারাও পাল্টেছেন তাদের পজিশন। তারা এখন অনেক বেশি সচেতন, তারা জানেন- আসলে কি চায় কোম্পানি।

তিন বছর আগে যেভাবে চাকরি পেয়েছেন- সেটা কিন্তু নেই আর। সত্যি বলছি। গতানুগতিক চাকরি দিতে চান না তারা। তাই আর দেরি না করে এখুনি পথ চলা শুরু করুণ লিংকডইন এর সঙ্গে লগ ইন করুন িি.ি খরহশবফরহ.পড়স এ।