২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নারায়ণগঞ্জে ৩শ’ কোটি টাকার পোশাক কেনাবেচার লক্ষ্য


মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের ৯টি মার্কেটের ৬শ’টি পাইকারি দোকানে (শোরুম) বিভিন্ন রকমের নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রিতে এখন বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দোকানিরা। হরেক রকমের তৈরি পোশাকের জন্য বিখ্যাত দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি মার্কেট ‘দেওভোগ পোশাক প্রস্তুতকারক মার্কেটটি’। ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ৯টি মার্কেটের ৬শ’ শোরুম এবং দেড় হাজার কারখানার প্রায় ৩০ হাজার পোশাক শ্রমিকরা নানা ধরনের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়েও জমে উঠেছে বেচাকেনা। চলবে ২৫ রমজান পর্যন্ত। চলতি বছরে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার পোশাক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক মার্কেট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা। বিদ্যুত বিভ্রাটসহ নানা কারণে পোশাক তৈরিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটালেও গত বছরের তুলনায় এবার বেচা-বিক্রি ভাল বলে জানিয়েছে মার্কেটের মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

মার্কেট সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম সড়ক, আলী আহম্মদ চুনকা সড়ক ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত হাকিম মার্কেট, ভুইয়া মার্কেট, ভুইয়া সুপার মার্কেট, হাকিম সুপার মার্কেট, মোল্লা মার্কেট, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, ভাই ভাই মার্কেট, রহমতউল্লাহ মার্কেট, জামির মার্কেটসহ মোট ৯টি মার্কেট নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক এলাকা। এই ৯টি মার্কেটে পোশাক বিক্রির শোরুম রয়েছে প্রায় ৬শ’টি। এই শোরুমগুলোর কারখানা রয়েছে প্রায় দেড় হাজার। পোশাকের কাপড় কাটিং, সেলাই, আয়রন, বোতাম, ডেকোরেশন, ফুল পেস্টিং, প্যাকিংসহ অন্যান্য কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। গত বছর ব্যবসা মন্দা যাওয়ার কারণে হাজার হাজার শ্রমিক ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। চলতি বছরে ব্যবসা কিছুটা ভাল থাকায় অতি আগ্রহ নিয়ে শ্রমিকরা দিন-রাত কাজ করছে। বিভিন্ন শোরুমের মালিক সূত্রে জানায়, তারা চীন, ভারত এবং থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ফেব্রিক্স এবং এক্সেসরিজ দিয়ে নিজস্ব ডিজাইনে প্রস্তুত করেন বলে এই মার্কেটের পোশাক সারাদেশে জনপ্রিয় রয়েছে। দেশের ৭০ শতাংশ তৈরি পোশাকের চাহিদা পূরণ করে থাকে নগরীর দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত এই পোশাক প্রস্তুতকারক মার্কেটটি। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জের পাইকাররাও নারায়ণগঞ্জের এই মার্কেট থেকে পোশাক সংগ্রহ করে পাইকারি বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, মৌচাক, বসুন্দরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ আধুনিক সকল বিপণিবিতানগুলো দেওভোগ মার্কেট থেকে তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে থাকে। পার্শ্ববর্তী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের আনাগোনায় প্রতিদিনই সরগম ও কোলাহলে ভরপুর থাকছে এই পাইকারি মার্কেটটি। চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, বগুড়া, খুলনা, রংপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও পঞ্চগড়সহ দেশের বহু অঞ্চল থেকে এই মার্কেটে পাইকারি ক্রেতারা ছুটে আসে। মাকের্টে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে শূন্য বয়সী কন্যা শিশু থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়েদের বাহারী সব ডিজাইনের পোশাম শোরুমে ঝুলছে। নানা পোশাকগুলোতে ঝিলঝিল করছে। এছাড়াও শূন্য বয়সী ছেলে শিশু থেকে ৬-৭ বছর বয়সী ছেলে শিশুদের তৈরিকৃত পোশাকও শোভা পাচ্ছে দোকানগুলোতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে গোটা মার্কেট সরগম হয়ে উঠেছে।