১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাজারের ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি টিসিবি


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই কার্যক্রম শুরু করেছিল সরকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে সীমিত আকারে অনেকটাই সাশ্রয়ী মূল্যে চিনি, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টিসিবি। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে টিসিবির নির্ধারিত ডিলারদের পাশাপাশি ১৭৯টি খোলা ট্রাকে করে এ সব পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে টিসিবি তার কার্যক্রম শুরু করেছিল নানা সমস্যা, অনিয়ম, আর দুর্নীতির কারণে তা সফল হয়নি। দূরত্বজনিত কারণে বেশিরভাগ ডিলার পণ্য না ওঠানোর কারণে বেশিরভাগ জেলায় এর কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে খালি হাতে ফিরে গেছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। এ কারণে বাজারে পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি টিসিবি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, দেশের অনেক জায়গায় টিসিবির পণ্য পৌঁছেনি। টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর সঙ্গে দূরত্ব বেশি হওয়ায় পথখরচ বেশি পড়ায় ও মুনাফা না হওয়ার আশঙ্কায় এসব পণ্য তোলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি বেশিরভাগ ক্রেতা। আবার অনেক ডিলারই পণ্য তোলার পর এর মান নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ওজনেও কম দেয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক ডিলার। বেশিরভাগ ডিলার জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কম পরিমাণ পণ্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ পোষাতে না পারা ও লোকসানের সম্ভাবনা থাকায় তারা টিসিবির পণ্য উত্তোলনে আগ্রহ দেখাননি। বিভাগীয় সদরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য উঠিয়ে এলাকায় বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানও গুনেছেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিসিবি ডিলার এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জুয়েল আহমদ জানিয়েছেন, ‘পণ্যের গুণগত মান ভাল নয়। ওজনে কম। মুনাফার হার কম। চিনি, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও অনেক স্থানেই এই ৬টি পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। কোথাও তেল সরবরাহ করেছে। আবার কোথাও দেয়া হয়নি। অনেক স্থানেই চিনি বা ছোলা সরবরাহ করা হয়নি। রাজধানীসহ সারাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় খেজুর সরবরাহ করা হয়নি। পণ্য উত্তোলনের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেশি হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশি। তাই লোকসান হবে জেনে অনেক ডিলারই পণ্য তোলেননি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে টিসিবির পণ্য মোটেও প্রভাব ফেলেনি বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর বলেছেন, টিসিবি এখন বাজার চাহিদার ২ থেকে ৩ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করতে পারে। চাইলেও এর বেশি পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সব ধরনের ক্রেতার জন্যই এসব পণ্য উন্মুক্ত থাকলেও টিসিবি মূলত নিম্ন আয়ের মানুষকে কম দামে পণ্য দেয়ার উদ্দেশ্য থেকেই এ কাজটি করে থাকে। তিনি দাবি করেন, ডিলারদের সব অভিযোগ সঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে তালিকাভুক্ত কিছু ডিলার হয়ত পণ্য তোলেননি। কিন্তু তা হিসেবে ওঠার মতো নয়। এ সব ডিলারের হার খুবই নগণ্য। পণ্যের গুণগত মান ভাল নয়- ডিলারদের এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

চলতি রমজানে ১৭৯টি ট্রাকে করে রাজধানীসহ সারাদেশে খোলাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। ওই কর্মকর্তা জানান, ১৭৯টি ট্রাকের মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৩২টি, চট্টগ্রামে ১০টি। অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় পাঁচটি করে ট্রাক রয়েছে। বিভাগীয় শহর বাদে বাকি ৫৭ জেলার প্রতিটিতে দুটি করে ট্রাক টিসিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পণ্য বিক্রি করছে। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে তিন হাজার ৫৪ জন ডিলারের মাধ্যমে যুগপৎভাবে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। রমজান উপলক্ষে সারাদেশে টিসিবি ডিলারদের মাধ্যমে প্রতি কেজি ছোলা ৭০ টাকা, চিনি ৪৮ টাকা, মসুর ডাল ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা এবং খেজুর প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছে। তবে রাজধানীর কোথাও কোনও ক্রেতা খেজুর কিনতে পারেননি। ডিলার ও ট্রাকের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টিসিবি থেকে তাদের খেজুর সরবরাহ করা হয়নি।

টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, টিসিবি চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও খেজুর এই পাঁচটি পণ্যের দেশের মোট চাহিদার ২ থেকে ৩ শতাংশ মজুদ রেখে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, টিসিবির পক্ষে এত কম পরিমাণ পণ্য দিয়ে বাজারকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। যে কারণে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করলেও বাজারে এর কোন প্রভাব পড়ে না। কারণ মোট জনগোষ্ঠীর খুব কমসংখ্যক ক্রেতারাই টিসিবির পণ্য কেনার সুযোগ পায়। তাছাড়া, টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন থেকে যায়।