১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আবাহনীর নবম না আরামবাগের প্রথম


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ১৯৮০ সালে মাঠে গড়ায় ফেডারেশন কাপের প্রথম আসর। এরপর গত ৩৬ বছরে এই টুর্নামেন্টের ২৭টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড সর্বোচ্চ ১০ বার শিরোপা জিতেছে। তারা অবশ্য তিনবার যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ বার জিতেছে আবাহনী লিমিটেড। ৩ বার করে শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ও শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের। এ ছাড়া ১ বার শিরোপা জিতেছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

২০১৬ সালের ফেডারেশন কাপের ২৮তম আসরের পৃষ্ঠপোষক হয়েছে ওয়ালটন। গত ১০ জুন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গড়ায় ‘ওয়ালটন ফেডারেশন কাপ।’ যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ইতোমধ্যেই ফাইনালে উঠেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। আজ সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার।

ম্যাচটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত আবাহনীর জন্য যেমন শিরোপাখরা ঘোচানোর, তেমনি প্রতিশোধেরও। কেননা টুর্নামেন্টে আবাহনীকে গ্রুপ পর্বে ১-০ গোলে হারিয়েছিল এই আরামবাগই! আবাহনী যে কোন পর্যায়ে সর্বশেষ শিরোপা জেতে ২০১২ সালে প্রিমিয়ার লীগে। এছাড়া কোন টুর্নামেন্টে শেষবার জেতে ২০১১ সালে সুপার কাপে।

শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও আবাহনীর চেয়ে অনেক পুরনো ক্লাব আরামবাগ। তাদের জন্ম সেই ১৯৫৮ সালে। তাদের বড় শিরোপা জয় একটিইÑ ১৯৯৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত ‘আনফা কাপ’-এ। এছাড়া তারা রার্নাসআপ হয়েছে ১৯৯৭ সালে সিকিমে অনুষ্ঠিত চীফ মিনিস্টার গোল্ড কাপ এবং ভারতে অনুষ্ঠিত নাগজি গোল্ড কাপে।

আবাহনী এর আগে ৮ বার শিরোপা জিতলেও আরামবাগ কখনও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। অবশ্য ১৯৯৭ ও ২০০১ সালে তারা দুইবার ফাইনাল খেলেছিল। ১৯৯৭ সালে আবাহনীর কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। আর ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তারা। ১৫ বছর পর ফাইনালে উঠেছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এবার আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ নিতে পারে কি না তারা সেটাই দেখার বিষয়।

ঢাকা আবাহনীও ২০১০ সালের পর ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিততে পারেনি। ৬ বছর আগে অতিরিক্ত সময়ে শেখ জামালকে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর এই আসরে শিরোপার মুখ দেখেনি আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। এবার তারাও শিরোপা জিততে মরিয়া। এই দলে এমন তিন খেলোয়াড় আছেন, যারা ২০১০ আসরের ফাইনালে আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন। এরা হলেন : সামাদ ইউসুফ, প্রাণতোষ কুমার দাস ও ওয়ালী ফয়সাল।

উভয় দলই বিদেশী-খেলোয়াড়নির্ভর। আবাহনীতে আছে ইংলিশ ফরোয়ার্ড লি টাক, নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা, সেনেগাল ফরোয়ার্ড কামারা সাররা ও ঘানার ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফের মতো কুশলী ফুটবলার। পিছিয়ে নেই আরামবাগও। তাদের আছে ঘানার ডিফেন্ডার ইসা ইউসুফ, ক্যামেরুন মিডফিল্ডার ইয়োকো স্যামনিক ও নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড কেস্টার এ্যাকনের মতো পরীক্ষিত যোদ্ধা। কেস্টার ইতোমধ্যে চার গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন। তার সঙ্গে আজ লড়াই হবে দুই গোল করা সানডে চিজোবার। নজরে থাকবেন এক গোল করা লি টাক-ও।

মোঃ আবদুল্লাহ, আবু সুফিয়ান সুফিল ও জাফর ইকবালÑএই তিন তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে গর্ব করতেই পারে আরামবাগ। এরা আরামবাগের তৃতীয় বিভাগের দল থেকে সরাসরি খেলছে সিনিয়র বা মূল দলে। ইতোমধ্যেই তাদের নৈপুণ্য নজর কেড়েছে ফুটবলামোদীদের।

টুর্নামেন্টে দর্শক টানতে সব ধরনের উদ্যোগের আশ্বাস দিয়েছে ওয়ালটন। প্রতি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কার রাখার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাকে বড় আকারের ১টি করে এলইডি টেলিভিশন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ লাখ টাকা ও ট্রফি। রানার্সআপ দল পাবে ৩ লাখ টাকা ও ট্রফি। ফাইনাল খেলা উপভোগ করবেন প্রধান অতিথি যুব ও ত্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন।

সবকিছু মিলিয়ে এখন দেখার বিষয়, আবাহনীর নবম নাকি আরামবাগের প্রথম শিরোপাজয় হয় আজ।