১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নাব্য সঙ্কট ॥ নদীতে আসছে না ইলিশ


স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ইলিশ শূন্যতায় খাঁ খাঁ করছে। সাগরে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়লেও নদ-নদীর জেলেরা আছে মহাসঙ্কটে। ধারদেনা করে নদীতে নেমে মিলছে না ইলিশ। বরং ইলিশের পিছনে ছুটতে গিয়ে দিনে দিনে বাড়ছে দেনা। বহু জেলে হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছে। বেকার সময় কাটছে তাদের। জেলে পল্লীগুলোতেও বিরাজ করছে চরম হতাশা। হাটবাজারেও হচ্ছে না ইলিশের সমারোহ। আড়তগুলোতে জমে উঠছে না কর্মচাঞ্চল্য। ইলিশ সঙ্কটের প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয় মৎস্য দফতর এবং জেলেরা নদ-নদীর নাব্য সঙ্কটকে দায়ী করছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নদ-নদীগুলোর নাব্য সঙ্কটের এ তথ্য স্বীকার করে অবিলম্বে এগুলো খননের সুপারিশ করেছে। স্থানীয় মৎস্য দফতর ও ইলিশ জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ইলিশ মৌসুম ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাতের কারণে বেশ এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাত এবং তার আগে-পরের কয়েকদিনের ঝড় বৃষ্টি জলোচ্ছ্বাস ইলিশ মৌসুমকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পর থেকে কমবেশি ঝড় বৃষ্টি চলছে। এতে করে সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু নাব্য সঙ্কটের কারণে পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতে ইলিশের তীব্র সঙ্কট চলছে। মৎস্য দফতরের মতে পটুয়াখালী জেলার পায়রা, তেঁতুলিয়া, রামনাবাদ, বুড়াগৌরাঙ্গ, আগুনমুখা, আন্ধারমানিক, দাড়চিরা, লোহালিয়াসহ অভ্যন্তরীণ অন্যান্য নদ-নদী ও সাগর মোহনার চ্যানেলগুলোতে ইলিশের বিচরণ এতটাই কমে গেছে, যা আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাব্য সঙ্কটের কারণে সাগর থেকে ইলিশ আসা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অথচ জেলার এসব নদ-নদীর ওপর ৫০ হাজারেরও বেশি জেলে নির্ভরশীল। কিন্তু কাক্সিক্ষত ইলিশ ধরা না পড়ায় নির্ভরশীল জেলেরা চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছে।

ধর্ষকের হুমকিতে ধর্ষিতার পরিবার আত্মগোপনে

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দিয়েছে ধর্ষকরা। এমনকি পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকিতে পরিবারের সব সদস্য এলাকা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। তারা এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত যে ধার্যকৃত দিনেও কোর্টে উপস্থিত হবার সাহস করেনি।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী জানতে পেরেছে ধার্য দিবসে কোর্টে এলে আসামিপক্ষ হামলা করতে পারে এই ভয়ে তারা এলাকা ছেড়ে বহু দূরে চলে গেছে। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জানালে বিচারক সরেজমিন তদন্তপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ২২ জুনের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সদর ওসি মাজহারুল ইসলাম কোর্টের নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানান। ঘটনাটি সদর থানার আতাহার গ্রামের। গত বছরের ২৯ নবেম্বর রাতে আতাহার এলাকার দেলশাদ কটার ছেলে আরিফুল ও তার সহযোগী মোস্তফার ছেলে জিয়ারুল গভীর রাতে ঘরে ঢুকে আদিবাসী তরুণীকে আম বাগানে তুলে নিয়ে যায়। পরে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে। তরুণীর চিৎকারে আত্মীয়স্বজন এগিয়ে এলে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। ওই বছরের অর্থাৎ গত বছরের ১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে ওই আদিবাসী নারী তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে বাদী আদিবাসী পরিবারটি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে।