মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ জুন ২০১৭, ৯ আষাঢ় ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৬

ডেভিড ক্যামেরন বিষয়টা আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই; ইউরোপীয় নেতারাও যে বোঝেননি তা নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিস্তর বুদ্ধিও খরচ করছিলেন নেতারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে গুড়েবালি ঢেলে দিয়েছে সে দেশের নাগরিকরাই। গণভোটে তারা ইউরোপ সংঘ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। যদিও ভোটাভুটি হয়েছে কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি। প্রাপ্ত ভোটের রায়ে পঞ্চাশ ভাগের কিছুটা ওপরে থাকাকে জোরালো মতামত বলা যাবে না। কিন্তু ভোটের হিসাব এমনই যদি একটিও ভোট বেশি পড়ে, তবে সেটি জয়। ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোটে ইইউ ত্যাগে ইচ্ছুক জনতার জয়লাভের পর নির্বাচনী ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন অক্টোবর নাগাদ পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অবাধে ইউরোপের নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করার কারণে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিল, সেটা বিগত কয়েক বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছিল। স্কুল, কলেজ ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চাপ বাড়ে। কারণ এই খাতে সরকারের বাজেট বৃদ্ধি হয়নি বরং অর্থনৈতিক মন্দায় এসব খাত থেকে বাজেট কর্তনই করা হয়েছে। কিন্তু সামনে কি যুক্তরাজ্যের আরেকটি মহামন্দা?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ২৮ জাতিসত্তা আর ২৪ ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। এর মধ্যে যেমন আছে মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট দেশ লুক্সেমবার্গ, তেমনি আছে আট কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বড় দেশ জার্মানি। যুক্তরাজ্যে ভোট শেষ হতে না হতেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বব্যাপী। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকা নিয়ে গণভোটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দেশটির মুদ্রা পাউন্ডের ওপর। মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম সর্বোচ্চ পরিমাণ কমে গেছে। পুঁজিবাজারেও ধস নামতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত এবং গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা সম্পর্কে। এই প্রথম কোন দেশ জোট ত্যাগ করছে। এর ফলে অভিবাসন, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের হুমকিতে থাকা ইউরোপের জন্য এটি হবে একটি অশনি সঙ্কেত। এই গণভোটের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে যে বিভক্তির ছায়া পড়েছে, তাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সৃষ্টি হওয়া ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের স্বপ্নে চিড় ধরারই আশঙ্কা। ইউরোপজুড়ে অভিবাসীদের বিশেষত মুসলিম শরণার্থীদের হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার পথও কি প্রশস্ত হলো না!

বলা দরকার, যুক্তরাজ্যে একটা বড় বাংলাদেশী কমিউনিটি রয়েছে। ইংল্যান্ডে ইংরেজী ভাষায় উচ্চ শিক্ষার সুযোগ ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়ক বলে ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে মাইগ্রেটেড হয়েছেন অনেক বাংলাদেশী। কিন্তু ইউরো জোন থেকে বের হলে ইউরোপের বাঙালীরা আর চাইলেও যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন না, এমনই আশঙ্কা। ইউরো জোনে না থাকলে ইতোমধ্যে যারা ইউরোপ থেকে চলে এসেছেন ভবিষ্যতে তাদের পরিবারকে যুক্তরাজ্যে আনতেও বেগ পেতে হতে পারে। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্য আলাদা হয়ে যাচ্ছেÑ বিষয়টি অবশ্য এমন নয়। এ জন্য দু’বছর সময়ের প্রয়োজন পড়বে। তবে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক পরিবর্তন যেটাই হোক না কেন সেটির জন্য ওই দুই বছর অপেক্ষার দরকার হবে না। যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করলে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা কী ধরনের সুবিধা পাবে কিংবা সুবিধাবঞ্চিত থাকবে সেটা নির্ভর করবে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন চুক্তির ওপরই। তবে যুক্তরাজ্যবাসী যে বৃহস্পতিবার রায়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। যদিও সেটি বুমেরাং হয়ে উঠবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৬

২৬/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: