১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চাকরি মেলায় ১২০০ শিক্ষার্থীকে চাকরি প্রদানের ঘোষণা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে চাকরি প্রদানের নিশ্চয়তার মাধ্যমে শেষ হলো চাকরি মেলা-২০১৬। দেশের স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চাকরি প্রদানের এ নিশ্চয়তা দিয়েছে। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) গণসাক্ষরতা অভিযান, স্টেপ ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী চাকরি মেলায় আয়োজকরা এ ঘোষণা দেন।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী শিক্ষার্থীরা মোট ৩০ টি চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জীবন বৃন্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রাণ আর এফ এল, বেঙ্গল গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ ও হামীম গ্রুপ।

চাকরি প্রত্যাশী কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সরকারি-বেসরকারি কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জীবন বৃন্তান্ত জমা দিচ্ছেন। দুপুরের দিকে আয়োজকরা জানান, ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ লোকের চাকরির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মেলা উপলক্ষে একই সময়ে একই স্থানে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা স্তরে চাকরি মেলা : বিদ্যমান পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা’ র্শীষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনার ও মেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন এমপি, বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। যত দ্রুত দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব, দেশর উন্নয়ন তত দ্রুত হবে। তাই কারিগরি শিক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করতে হবে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার নামে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এদের পোস্ট মর্টেম করা দরকার। এভাবে আর কতোদিন সার্টিফিকেট দিবেন? সারাবিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এতোবেশি লোকের দরকার; কিন্তু ১৬ কোটির দেশে সেই লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এদেরকে সত্যিকারভাবে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কাজ করার আগ্রহ আছে, কাজ করে। তবে কাজ দিতে পারি না। কর্ম সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য আয়োজিত মেলার আয়োজকদের ধন্যবাদ।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, গণসাক্ষরতা নিয়ে কাজ অত্যন্ত আলোচিত। দেশে কর্মসংস্থান যদি সৃষ্টি না হয়Ñতবে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে না। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের যৌবনকাল চলছে। আর ইউরোপ-আমেরিকায় এখন বার্ধক্য। এখন যদি আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারি তবে আর সম্ভব নয়। যদি শিল্প বান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি, বাংলাদেশের যৌবনকালকে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিষ্ময়কর এক চমক সৃষ্টি করবে। সেমিনারে তপন কুমার দাসে সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর আলেয়া সারোয়ার ডেইজী ও গণ সাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরি।

বক্তরা বলেন, কারিগরি শিক্ষার জন্য বাজেটে স্পষ্টভাবে বরাদ্ধ রাখা উচিৎ এবং উত্তোরত্তর তা বৃদ্ধি করতে হবে। আয়োজকরা বলেন, চাকরি মেলা কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চাকরির একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা অনেক বেশি পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ২০০ লোকের চাকরি নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: