১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পঞ্চগড়ে এক-চতুর্থাংশ গমও সংগ্রহ হয়নি


স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গম ও ধান ক্রয় করে থাকে। কিন্তু মৌসুমের শেষে এসে সংগ্রহ অভিযান শুরু করাসহ বিভিন্ন জটিলতায় কৃষকরা এই সংগ্রহ অভিযানের কোন সুফল পাচ্ছে না। চলতি গম সংগ্রহ অভিযানেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত গম যখন বিক্রি শেষ করেছে তখন শুরু হয়েছে গম সংগ্রহ অভিযান। আর সংগ্রহ অভিযানের শেষে এসে জটিল নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি গম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হলেও বেশিরভাগ কৃষকের ঘরে গম না থাকায় এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চার ভাগের এক ভাগও গম ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। এ সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কৃষক সেজে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও কিছু ফড়িয়া ব্যবসায়ী খাদ্যগুদামগুলোতে গম সরবরাহের চেষ্টা করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, চলতি গম সংগ্রহ অভিযানে পঞ্চগড় জেলার আটটি খাদ্যগুদামে ১১ হাজার ৯৬৮ টন গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে দুই হাজার ৯২৩ টন, তেঁতুলিয়ায় তিন হাজার ২৮৩ টন, আটোয়ারীতে দুই হাজার ৬৯৮ টন, বোদায় এক হাজার ৭৮৯ টন এবং দেবীগঞ্জে এক হাজার ২৭৫ টন। কিন্তু সংগ্রহ অভিযানের শুরুতে কী নিয়মে ও কার কাছ থেকে গম নেয়া হবে তার কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেয়া হয়নি। পরে পাঠানো নীতিমালায় বলা হয়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য সুবিধা দেয়ার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে গম ক্রয় করতে হবে। আর খাদ্যগুদামে সরবরাহকৃত গমের টাকা কৃষকের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক কৃষককে এ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সদর উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক উপজেলার ১২ হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করে গত ৮ মে সদর খাদ্যগুদামে গম সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়। পরে তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী খাদ্যগুদামে গম সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এর আগে উদ্বোধন করা হয় বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষক ৫০ কেজি ওজনের পাঁচ বস্তায় আড়াই শ’ কেজি গম দিতে পারবে, যার প্রতি কেজি ২৮ টাকা হিসাবে মূল্য দাঁড়ায় ৭ হাজার টাকা। কিন্তু এখন কোন কৃষকের ঘরে গম না থাকায় এবং মাত্র ২৫০ কেজি গম দেয়ার জন্য ব্যাংক এ্যাকাউন্টের ঝামেলা থাকায় গম সরবরাহের ক্ষেত্রে কৃষকদের তেমন একটা সাড়া মিলছে না। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চার ভাগের এক ভাগও গম ক্রয় করতে পারেনি খাদ্যগুদাম। এভাবে গম সংগ্রহ করা হলে বেঁধে দেয়া ৩১ মে’র মধ্যে অর্ধেক গমও ক্রয় করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। ফলে ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও এক শ্রেণীর সরকারদলীয় নেতাকর্মী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গম ক্রয় করে খাদ্যগুদামে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ফড়িয়া ও নেতাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের এক হাজার টাকা দিয়ে কার্ড নিয়ে নিজেরাই কৃষক সেজে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলছে মর্মে অভিযোগে জানা গেছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের বলেন, নতুন কোন নীতিমালায় ত্রুটি থেকে যায়। আমরা সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করার জন্য কৃষকসহ সবাই এখন ব্যস্ত। বেশকিছু কৃষক গুদামে গম দিয়েছে। এ্যাকাউন্টের কাজ শেষ হলে গম ক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষক লাঞ্ছিত ॥ প্রতিবাদে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ চেয়ারম্যান রাজু বাহিনীর হাতে সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী মোমিন উদ্দিন লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ৯টায় স্কুলের সামনে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও শিশু সাংবাদিক জি এম নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, স্কুল স্টুডেন্ট কেবিনেট’র সভাপতি তাহমিদ হাসান সংগ্রাম, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, পারভেজ ইমাম প্রমুখ। নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানকে সমর্থন না করায় চেয়ারম্যান বাহিনী স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত শিক্ষক মোমিন উদ্দিনের স্ত্রী শামিমা পারভীন।