১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

তনু হত্যা তদন্তে অগ্রগতি


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ঘটনার সময় তনুর পরনের কাপড়, শরীরের অংশবিশেষ ও রক্তের ডিএনএ নমুনায় ধর্ষণে তিন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার নমুনা পাওয়া গেছে। সোমবার সিআইডি কুমিল্লা তরফে এই তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, তনুর লাশ আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তনুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। সিআইডির বক্তব্য ‘ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তনু ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। কিছু তথ্য, উপাত্ত, মুঠোফোনের এসএমএস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে আমরা আসামি শনাক্ত করতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’ উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দুই দফায় তদন্তকারী কর্মকর্তা/সংস্থা পরিবর্তন শেষে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং খুনীরা শনাক্ত বা আটক না হওয়ার বিষয়টি এক সময় সবার মাঝে হতাশা সৃষ্টি করেছিল। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, রোডমার্চ ও মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজারো মানুষ। এক সময় এই হত্যার তদন্তের গতি দেখে অনেকেই ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। বিশেষ করে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না করায়। এখন সিআইডির তদন্ত রিপোর্টের পর বিচারের পথ আরও প্রশস্ত হলো। এখন তনু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

দেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ বেড়ে চলেছে উদ্বেগজনকহারে। প্রতিদিনই নানা ধরনের অপরাধের খবর আমরা মিডিয়ার কল্যাণে পেয়ে থাকি। এর একটা বড় অংশ নারীর প্রতি সহিংসতা। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর খুন, খুন করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া, শারীরিক নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধ। প্রায় ক্ষেত্রেই অপরাধীরা এতটাই বেপরোয়া যে, মামলা করেও ভিকটিম ও পরিবারকে হুমকি-ধমকি সহ্য করতে হয়, আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রমাণ করাও দুরূহ হয়ে ওঠে। এতে প্রায়শই অপরাধী শাস্তি এড়াতে সক্ষম হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ভিকটিমের বিচার পাওয়াকে অনিশ্চিত করে তোলে। অপরাধের বিচার না হলে, অপরাধীরা শাস্তি না পেলে তা আরও অপরাধপ্রবণতাকে উস্কে দেয়। তাই অপরাধের দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। কারণ তনু হত্যার ঘটনাটি কিছুটা ভিন্ন মাত্রার। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, সেনানিবাস সংলগ্ন সুরক্ষিত এলাকায়ও যদি এমন ঘটে, তাহলে দেশের অন্যত্র নারীর নিরাপত্তার প্রকৃত রূপ কি?

দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন আছে। আছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না নারী নির্যাতন-হত্যাকাণ্ড। এতেই প্রতীয়মান হয় কেবল আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। আগে আইনটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে। আর যাতে কোন তনুকে এভাবে নির্মম পাশবিকতার শিকার হতে না হয়, জীবন দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার জরুরী। যত ক্ষমতাবানরাই এই ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হতে পারে অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা।