১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সংসারের দাবি সংসারের দায়


জাস্টিন গোমেজ

সংসার স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই। উভয়ের প্রচেষ্টা, ঐকান্তিকতা, একে অন্যের প্রতি সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ দ্বারা একটা সংসারকে সুন্দর ও সুখী করা যায়। সংসারে যারা সবকিছু মেনে নেবার চেষ্টা করে তাদের দুঃখ নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, ‘কারও বা থাকে দাবি, কারও বা থাকে দায়। এই দুই নিয়ে সংসার।’ বর্তমানে পরিবার ভাঙন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়ে করছে, বেশি হলে চার কি পাঁচ বছর পর্যন্ত টিকে থাকছে বিবাহ-বন্ধন। তারপর শুরু হয় কলহ আর ফলাফল দাঁড়ায় বিচ্ছেদ। এর পেছনে প্রধান যে কারণগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা পালন করছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- জীবন-সঙ্গী/সঙ্গিনী নির্বাচনে অসাবধানতা। অর্থাৎ অতিরিক্ত আবেগ আর বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে জীবন-সঙ্গী নির্বাচন করলে যা হয়! বিয়ের পর দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীকে সময় দিতে পারছে না বা স্ত্রী-স্বামীকে সময় দিতে পারছে না। সুলেখক লুৎফর রহমান সরকার বলেছেন, ‘সংসার সমরাঙ্গনে জীবন-যুদ্ধে অবতীর্ণ, ...সে যে কি দুর্বিষহ জ্বালা সংসারী মাত্রই তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। এখানে যুদ্ধ আছে ঠিকই কিন্তু তার শেষ নেই। এ এক করুণ আমরণ যুদ্ধ।’

এ ধরনের সাংসাবিক নাটক বর্তমানে চোখ এড়ায় না। সংসারে অশান্তির অন্যতম আরেকটি কারণ হলো অতিরিক্ত চাহিদা। অর্থাৎ অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে গিয়ে অতিরিক্ত উপার্জন করতে হয় আর এর ফলস্বরূপ স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সময় দিতে পারে না। শুধু পরস্পরকে নয় সন্তানকেও সময় দিতে পারে না। তাই সন্তানকে সব সময় বাসায় বন্দী থাকতে হয় এবং দেখা যায় তাদের চিন্তা-চেতনায় বিশৃঙ্খলা ও আচরণে সমস্যা। এটি এখন বহুলাংশে পরিলক্ষিত যে, এক ধরনের যৌন-অপসংস্কৃতি প্রবেশ করছে পরিবারগুলোতে। অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী জড়িয়ে পড়ছে পরকীয়ায়। যা প্রকৃতপক্ষে অবাঞ্ছনীয়। অবশেষে ফলাফলে গিয়ে দাঁড়ায় ছাড়াছাড়িতে অর্থাৎ ডিভোর্সে। আর এর প্রভাব পড়ে গিয়ে সন্তানের ওপর। অনেক পরিবারে দেখা যায়। বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়েছে এবং সন্তানরা চুপচাপ কাঁদে, হুঁ হুঁ করে কাঁদে, কাউকে কিছু বলতে পারে না। সন্তানের মনোজগতে তখন প্রশ্ন জাগে, বাবা-মার ডিভোর্স হয়েছে তাহলে কার কাছে থাকব? তখন তারা মানসিক দিক দিয়ে প্রচ-ভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং পরবর্তী জীবনে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে দেখা যায়, রাগ উঠলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিচ্ছে। মা আবার যাকে বিয়ে করেছে তাকে বাবা হিসেবে মেনে নিতে পারে না। ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের অবাঞ্ছিত অবস্থা শুধু একটি পরিবারের জন্য অমঙ্গলকর নয় বরং সমাজ তথা গোটা জাতির জন্য অমঙ্গলকর। কেননা এভাবেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জাতির সৃজনশীল মেধাগুলো।

তাই জীবন-সাথী নির্বাচনে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। পরস্পরের মধ্যে মানসিক সমঝোতা একান্ত আবশ্যক। বিয়ের পর পরস্পর-পরস্পরকে যেন যথেষ্ট সময় দেয় তথা সন্তানকেও। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে সময় কাটানোতে এক ধরনের পারিবাবিক বিধান রচিত হয়। আর তখন প্রত্যেকের মধ্যে দেখা যায় প্রত্যেকের জন্য প্রচেষ্টা, ঐকান্তিকতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ।

নটর ডেম কলেজ, ঢাকা থেকে