১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সরকার উৎখাতে ইসরাইলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বিএনপি-জাময়াত : প্রধানমন্ত্রী


সরকার উৎখাতে ইসরাইলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বিএনপি-জাময়াত : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট বর্তমান সরকারকে উৎখাতে ইসরাইলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তিনি দেশের জনগণকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত এখন এতটাই বেপরোয়া যে, তারা সকলে মিলে এখন আমাকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। সত্য কোনদিন চাপা থাকে না । তারা (বিএনপি-জামায়াত) যাদের সাথে হাত মিলিয়েছে তারা প্রতিনিয়তই ফিলিস্তিনে নারী ও শিশু হত্যা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বাংলা প্রবাদ উদ্বৃত করে বলেন-‘রতনে রতন চেনে’।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলে অবস্থানকালীন সময়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ইসরাইলের রাজনৈতিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশের হাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী গ্রেফতার হবার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান।

সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাশগুপ্ত এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন খান এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আজবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াত দেশের বিরুদ্ধে যেমন ষড়যন্ত্র করে চলেছে তেমনি ইসলামের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কুচক্রী এবং ঘাতকচক্র দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, ইসলামের বিরুদ্ধেও তাদের ষড়যন্ত্র চলছে । তারা আসলে বাংলাদেশ চায় না এবং তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে অসংখ্য মানুষ হত্যা এবং সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটতরাজ করেছে। এখন তাদের সেই চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয় নি।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল এবং সরকার উৎখাতের জন্য গত বছরের প্রথম ৩ মাসে বিএনপি-জামায়াতের মানুষ হত্যা ও নৈরাজ্যের প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘পোড়া মানুষের লাশের উপর দিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল।’ তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ঘোষণা দিয়েছিলেন- সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না এবং তার আন্দোলন ছিল, মানুষ হত্যার আন্দোলন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য থেকে সে সময় সাধারণ মানুষ এমনকি নারী,শিশু,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পর্যন্ত রেহাই পায়নি । সেই দুঃসহ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বেগম জিয়া আজ পর্যন্ত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।’ শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ জনগণ বিএপি-জামায়াতের সেই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি বলেন, সাধারণের প্রতিরোধের মুখে বিএনপি-জামায়াত তাদের সন্ত্রাস বন্ধ করে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়। পাপ বাপকেও ছাড়েনা, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি-জামায়াত অপরাধী চক্র ২০১৩ ও ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ কিন্তু এসব হত্যাকান্ডকে সমর্থন করেনি এমনকি আন্তর্জাতিক মহলও না।

দেশের সাস্প্রতিক কিছু গুপ্তহত্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তারা মসজিদের ইমাম,মন্দিরের পুরোহিত, গীর্জার পাদ্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেছে বেছে খুন করছে। তিনি বলেন, ‘তারা সম্প্রতি ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দিপু মনির কাজিনকে হত্যা করেছে এবং ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করেছে।’ বিএনপি-জামায়াত মানুষ হত্যা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশে য্দ্ধুাপরাধীদের বিচার চলায় এবং একের পর এক রায়ে তাদের ফাঁসি কার্যকর হতে থাকায় একাত্তরের পরাজিত শক্তি মোটেও স্বস্তিতে নেই বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং গণহত্যা চালায় তারাই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আদালতে চিন্থিত হয়েছে এবং বিচারের রায়ে তাদেরই ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছয়বছর প্রবাসে কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে এক ঝঞ্জা বিক্ষুদ্ধ দিনে দেশে ফিরে আসি। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ,দলীয় নেতা-কর্মীরা আমাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানায়। শূন্য হাতে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন, এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন দলীয় নেতা-কর্মীদের সাহস এবং প্রেরণা ব্যতীত কোন সম্পদ ছিল না তাঁর কাছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন দেশে ফিরে আসলাম, লাখ লাখ মানুষের ভালবাসা আমাকে সিক্ত করলো কিন্তুু আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি যার ভালবাসাই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশিত ছিল-তিনি সেখানে ছিলেন না। জাতির পিতা এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট শহীদ, পরিবারের ভাগ্যহত সদস্যদের স্মরণ করে এ কথা কথার সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশী,আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি,বুদ্ধিজীবী এবং দেশের সাধারণ জনগণকে তাঁর পরিবার এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের সাহস ও ভালবাসারই ফল, যে কারণে আজ আমরা এতদূর আসতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় সরকারের নানাবিধ সাফল্যের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল। বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখে না।’ সূত্র : বাসস

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: