২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাইকস-পিকো চুক্তির এক শ’ বছর


আজ থেকে প্রায় এক শ’ বছর আগের ঘটনা। দুই ঔপনিবেশিক শক্তি ১৯১৬ সালের ১৬ মে গোপনে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের দু’জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক সাইকস ও ফ্রঁসোয়া জর্জ পিকো যথাক্রমে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওসমানী সাম্রাজ্যের পতনের পর রীতিমতো কেক কাটার মতো করেই তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয় গোটা আরব অঞ্চল। এই অঞ্চল সম্পর্কে কোন ভূ-রাজনৈতিক জ্ঞান না থাকা এই দুই রাষ্ট্র নিজেদের পছন্দ মতো দখল করে মধ্যপ্রাচ্য। একশ’ বছর আগে এমন এক চুক্তির ফলেই গোটা আরব অঞ্চলের মানচিত্র বদলে গিয়েছিল।

সেই হঠকারী সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজও টের পাচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। আজকের বর্তমান অস্থিরতার জন্য অনেকেই এই চুক্তিকে দায়ী করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে ওসমানি সাম্রাজ্যের মধ্যে আজকের মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিশাল এলাকা যুক্ত ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তারা জার্মানদের পক্ষ নেয়। এই কারণে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর নিজেদের মধ্যে

সংঘাত এড়াতে ফ্রান্স ও ব্রিটেন প্রথমে সেই এলাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। ঐ অঞ্চলের ওপর যৌথ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয় এই দুই রাষ্ট্র। এ চুক্তির ফলে আগের সব অঞ্চল শাম, হিজাজ, ইরাক, কুর্দিস্তানকে নতুনভাবে সৃষ্টি করা হয়। ১৯২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেন নিয়ন্ত্রিত প্যালেস্টাইনের একটি অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্স জর্দান রাষ্ট্র গঠন করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে ব্রিটেনের অনুরোধে জাতিসংঘ এই এলাকাকে স্বাধীন ঘোষণা করে।

সৃষ্টি হয় আরেকটি নতুন রাষ্ট্র ইসরাইল যা বেলফোর চুক্তির আওতাই প্রতিষ্ঠিত। অথচ কুর্দি জনগোষ্ঠী নিজস্ব এলাকা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। এই জাতিকে চারটি রাষ্ট্রের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। বর্তমানে আইএসের উত্থানের পর নতুন করে ইরাক রাষ্ট্র ভাগ করার কথা শোনা যায়।

চলমান ডেস্ক