২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চূড়ান্ত বিপর্যয়


চূড়ান্ত বিপর্যয়

শাহীন রহমান ॥ ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়ন হলে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের শিকার হবে দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত সরকারের কথা অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশ ভয়াবহ পানি সঙ্কটে পড়বে। ব্যবহারের প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাবে না। গোটা দেশ মরুকরণের শিকার হবে। তাদের মতে, শুধু ফারাক্কার বাঁধের প্রভাবে ৪২ বছর পরে দেশের প্রধান প্রধান নদীসহ প্রায় সব নদী এখনই পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি প্রত্যাহারের ফলে যমুনা নদীর পানি প্রবাহও এখন অর্ধেকে নেমে পড়েছে। এখন আবার আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়ন হলে দেশে তিনশ’র বেশি নদীতে একফোঁটাও পানি পাওয়া যাবে না।

জাতিসংঘের সাবেক পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ এস আই খান বলেন, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশে ইতোমধ্যে মরুকরণ প্রক্রিয়া, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, জীববৈচিত্র্য বিনাশসহ অসংখ্য পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এরপর ভারত পরিকল্পিতভাবে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত করলে বিশ্ব দরবারে সবুজ, সুফলা এবং মাছে-ভাতের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ অতিদ্রুত মরুভূমিতে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, ভারতের একতরফাভাবে অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। এর বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার না ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একাধিক দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর ব্যবহার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন দেশের ভেতর গিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি প্রবাহ, গতিধারা নদীর তীর এবং ধারক অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যসহ সব ধরনের তথ্য প্রতিটি দেশ পরস্পরকে দিতে বাধ্য। কিন্তু ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প সম্পর্কিত কোন সময়ই বাংলাদেশকে দেয়নি। তাই একতরফাভাবে এই নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার, নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন পরিবর্ধন অবশ্যই আন্তর্জাতিক নদী আইনের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প অনেক দিনের পরিকল্পনা হলে ইতোমধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সোমবার ভারতের পানি সম্পদমন্ত্রী উমা ভারতীর কথা তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, খরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশ কিছু নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে পানি এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব নদীর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদী গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রও রয়েছে। তিনি জানান, ৩০টি কৃত্রিম খালের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের অনেক বড় এজেন্ডা। আমরা বর্তমানে পাঁচটি সংযোগ খাল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। উত্তর ও মধ্যপ্রদেশের কেন-বেতওয়া যুক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যে কোন সময় খালটি উদ্বোধন করা হবে। আমাদের এর পরের কাজ হবে মুম্বাইয়ের পানি সংকট নিরসন করা। দামনাগঙ্গা-পিঞ্জল যুক্ত করার মাধ্যমে মুম্বাইয়ের সমস্যার সমাধান করা হবে।

নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গার পানি সরিয়ে নেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পদ্মায় পানি আসছে কম। পদ্মার পানি স্বল্পতার ঘাটতি পূরণে তিস্তা থেকে পানি ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে যমুনা দিয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মায় চাপ সৃষ্টি করত। আর এই পানি চার নদীর মাধ্যমে ঢাকা দিকে আসত। ফলে ঢাকার ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে যাওয়া রোধ করত। গত কয়েক বছরে ভারত সরকার তিস্তার পানির গতিরোধ করে বিহারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তার পানি ঢাকার দিকে আসছে না। তিস্তার উজান থেকে পানি সরিয়ে নিলে ভাটি অঞ্চলে এর প্রভাব পড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, শিলিগুড়ি শহরের দক্ষিণ দিয়ে গজলডোবা ব্যারাজের উজান থেকে ভারত একটি সংযোগ খালের মাধ্যমে তিস্তার পানি মহানন্দা নদীর ফুলবাড়ী ব্যারেজ দিয়ে বিহারের মেচী নদীতে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহের অভাবে বাংলাদেশে তিস্তা সেচ প্রকল্প মার খাচ্ছে। তিস্তার পানি সরিয়ে নেয়ায় এর অববাহিকায় বরেন্দ্রভূমির ভূগর্ভস্ত পানির স্তর ফেব্রুয়ারি থেকে নেমে যাচ্ছে। এর উপর নির্ভরশীল বোরো চাষ মার খাচ্ছে। তার মতে, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত সরকার তিস্তার পানি সরিয়ে নেয়ার ফলে পর্যাপ্ত পুনর্ভরণের অভাবে ঢাকার ভূগর্ভস্ত পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কার মাধ্যমে পদ্মার পানি প্রত্যাহার ও গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়ার ফলে দেশে প্রায় সবগুলো নদী শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে ভুগছে। এরপর আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়ন হলে দেশে কি পরিস্থিতি হবে তা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞরা আন্তঃনদী সংযোগের প্রভাবে দেশের বেশ কয়েকটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট প্রভাবের কথা বলেছেন। যার ফলে দেশের নদীভিত্তিক অর্থনীতি একেবারের বিলীন হয়ে পড়বে। নদীর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী এস আই খান বলেন, ভারত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উজান থেকে পাওয়া ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবে। বর্তমান পরিকল্পনায় ভারত উজানে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধ কুমার, করতোয়া মহানন্দা থেকে পানি প্রত্যাহার করে নিলে সব নদীর পানি শুকিয়ে দেশ মরুভূমিতে পরিণত হয়ে যাবে।

তার মতে, শুধু ফারাক্কা বাঁধের মাধমে পানি প্রত্যাহারের ফলে খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ততা ইতোমধ্যে অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রের লোনা পানি দেশের অভ্যন্তরে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবেশ করবে। লবণাক্ততার কারণে ধান চাষ ব্যাহত ও মিঠা পানির মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে পড়বে। শুষ্ক মৌসুমে ভূ-উপরিভাগের পানি আর পাওয়া যাবে না। তার মতে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বর্তমানেও শুষ্ক মৌসুমে বেশিরভাগ নলকূপের পানি উঠছে না। নদীর পানি না থাকায় পাতালের পানি যেভাবে রিচার্জ হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। পাতাল পানির পুনর্ভরণে নদীর পানির ভূমিকা রয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ। বাকি ২০ ভাগ পূরণ করে বৃষ্টি পানি। পাতাল পানির স্তর ৮ মিটারের বেশি নেমে গেলে সে অঞ্চলে অগভীর নলকূপের মাধমে আর পানি পাওয়া যাবে না। বর্তমানে দেশে ৫০ লাখ অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ ও খাবার পানি চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

পানির স্তর বেশি নিচে নেমে গেলে ভূগর্ভস্তরের পানির সঙ্গে আর্সেনিকের দূষণ বৃদ্ধি পাবে। পানিতে আর্সেনিকের ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। আর্সেনিকের বিষাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। নদীর নাব্যতা কমে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবেই শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে আয়তন প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারে এসে পৌছেছে। আন্তঃনদী সংযোগে নৌপথ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করে নেয়া হলে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই ভূমিকম্প, পানির চাপ বা অন্য কোন কারণে কোন একটি বাঁধ ভেঙ্গে গেলে উজান থেকে আসা পানির তোড়ে দেশে হঠাৎ বন্যায় ধ্বংযজ্ঞ ডেকে আনবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি সরিয়ে নিতে আসামের ডুবরী নামক স্থানে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্থানটি বেশ ভূমিকম্প প্রবণ। বড় ধরনের ভূমিকম্পে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সুনামীর মতো বড় দুর্যোগ নেমে আসতে পারে দেশের ওপর।

নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ইনামুল হক বলেন, বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৮০ ভাগ চাহিদা পূরণ করে। যার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের কৃষি ও জীব পরিবেশ গড়ে উঠেছে। অতএব এর একটা বিরাট অংশ ভারতের পশ্চিমে নিয়ে গেলে বাংলাদেশে বিশাল পরিবেশ বিপর্যয় হবে। সমুদ্রের লবণাক্ততা পদ্মার গোয়ালন্দ, মধুমতির কামারখালী, ধলেশ্বরীর, মানিকগঞ্জ এবং মেঘনার ভৈরব ছাড়িয়ে যাবে। সমগ্র যমুনা নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাবে। সারাদেশের নদী ও অভ্যন্তরীণ জলাভূমির প্রায় অর্ধেক এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। মিষ্টি পানির অভাবে সারাদেশের প্রায় অর্ধেক এলাকার ভূতল জীব এবং জনজীবন অভূতপূর্ব বিপদের মুখে পড়বে। মোহনা এলাকার জীববৈচিত্র্য, মৎস্য এবং জলসম্পদ বিপর্যস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি বা প্রবাহ না থাকায় ইতোমধ্যে বিলীন হওয়ার দেশের এক-তৃতীয়াংশ নদী। কাগজে-কলমে দেশে ৩১০টি নদীর অস্তিত্ব থাকলেও প্রায় ১শ’ নদীতে বছরের বেশিরভাব সময়ই পানি থাকে না। এর মধ্যে অনেক নদী ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে গেছে। অনেক নদীতে বর্ষা মৌসুমে প্রবাহ কিছু থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নদী বলে মনে হয় না। বাকি সময়ে নদীতে চলে নানা ধরনের চাষাবাদ। নদী বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী গত ৪৪ বছরের দেশে প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার নদী পথ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে দেশে কোন নদী পথের অস্তিত্বই থাকবে না।

তাদের মতে, শুধু ফারাক্কার প্রভাবেই পদ্মা নদীর অনেক শাখা নদী বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া তিস্তায় পানি না থাকায় উত্তরাঞ্চলের ছোট-বড় ৩৩ নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে পদ্মা যমুনার পানি কমে অনেক স্থানেই মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। যমুনার বুকে জেগে উঠেছে শতশত চর। এ কারণেই উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মুরুভূমিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নদীতে পানি না থাকায় ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্ত পানির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রতি বছর আশঙ্কাজনকহারে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল ও মোহনায় যে ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে দেশের অধিকার আছে তার ক্ষতিপূরণ চাওয়ার। সিকিমে নির্মিত তিস্তার ড্যামগুলো এই ক্ষতি বাড়িয়ে চলছে। নদী প্রবাহের ঐতিহাসিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনগণকে পথে নামতে হবে এখনই। এছাড়াও নদীর পানি ব্যবহারের বেলায় জাতিসংঘের ১৯৯৭ কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা রয়েছে। এর আলোকে অবশ্যই এখনই বাংলাদেশ সরকারকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হেলসিংকী নীতিমালা ১৯৬৬’র ৪ ও ৫নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত দেশ অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনা করবে। এ জন্য অবশ্যই অন্য দেশে যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ২৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এক অববাহিকাভুক্ত একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অববাহিকায় প্রবাহিত পানির ব্যবহার সম্পর্কে গৃহীত পদক্ষেপ অবহিত করবে। জাতিসংঘ নীতিমালার ৭ এর ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশ আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ থেকে পানি ব্যবহারের সময় পার্শ্ববর্তী একই অববাহিকার অন্যান্য দেশের যাতে কোন বড় ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক ১৯৯২ সালের কনভেনশন অনুযায়ী পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ বিশ্বের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউনেস্কোর বিশ্ব জলাভূমি কনভেনশন ১৯৭১ অনুযায়ী পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ প্রকৃতি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য জলাভূমিকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হেলসিংকী চুক্তি ১৯৯২ অনুযায়ী সব পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে আন্তঃসীমানার পানি সম্পদের এমন যুক্তিসঙ্গত ও সুষম ব্যবহারে সেই পানি সম্পদের কোন আন্তঃসীমা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। বিশ্ব ড্যাম কমিশন ১৯৯৮ অনুযায়ী কোন নদীতে বড় ড্যাম তৈরি করতে চাইলে সেই নদী অববাহিকার মানুষের কাছে এই ড্যামের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত একতরফাভাবে অভিন্ন নদীর পানি যেভাবে প্রত্যাহার করছে এবং প্রত্যাহারের জন্য যেসব প্রকল্প গ্রহণ করছে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক এসব আইনের লঙ্গন। বাংলাদেশকে অবশ্যই এ আইন অনুযায়ী এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া এর বিরুদ্ধে দেশের প্রবল প্রতিবাদ জানাতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য উজানে পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করে দেশের ভেতরে ও বাইরে গণজাগরণ, গণপ্রতিবাদ ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।