১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা


আহমেদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সার্কের নামে পেশাজীবী সংগঠন খুলে প্রতারণায় নেমেছে আন্তর্জাতিক একটি চক্র। সার্ক এ্যাসোসিয়েশন অব এসেথেটিক ডার্মাটোলজি (সার্কএএডি) নাম দিয়ে সংগঠনটি সম্মেলন আয়োজনের নামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির নিকট থেকে স্পন্সরশিপ বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ অংশগ্রহণকারীদের নিকট থেকে আদায় করছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। সংগঠনটি সার্কের নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কার্যত সার্ক থেকে কোন অনুমোদন নেয়নি। অর্থ হাতিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অখ্যাত অসাধু লোক অভিনব এ পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সার্ক এ্যাসোসিয়েশন অব এসেথেটিক ডার্মাটোলজি নামে চর্মরোগ ডাক্তারদের কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন নেই। এটি একটি ভুয়া সংগঠন। ওই সংগঠনে বাংলাদেশের যে চারজন প্রতিনিধি আছেন, তারা কোন নামকরা ডাক্তার না। চারজনের মধ্যে দু’জন আছেন যারা রূপচর্চা নিয়ে কাজ করেন।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটি সার্ক সচিবালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি সেখানে এ নামে এ ধরনের কোন সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন নেই। সার্ক সেক্রেটারিয়েট অফিসে আমরা একটি চিঠি লিখি, যার উত্তরে গত ১০ মে সার্ক সেক্রেটারিয়েট ডেস্ক অফিসার পামির পার্শরী জানিয়েছেন, এ নামে সার্ক স্বীকৃত কোন সংগঠন নেই। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনও করেনি। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক ডেস্কের পরিচালকও এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

একিউএম সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, মূলত বাংদেশী ৩-৪ জন এবং ভারতের কিছু অখ্যাত এবং অসাধু লোক সার্কের নাম ব্যবহার করে এ সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনের নামে ওষুধ কোম্পানিগুলোর নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

আগামী ২৮ ও ২৯ মে রাজধানী ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করে সার্ক এ্যাসোসিয়েশন অব এসেথেটিক ডার্মাটোলজি নামের সংগঠনটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। এসব মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনও নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটি এবং সার্ক এ্যাসোসিয়েশন অব রিজিওনাল ডার্মাটোলজির নিকট থেকে কোন সম্মতি ও স্বীকৃতি নেয়নি।

সাধারণত যে দেশে সম্মেলন হয়, সে দেশের মুদ্রায় নিবন্ধন এবং আয়-ব্যয় নির্বাহ করার নিয়ম থাকলেও এ সম্মেলনের ক্ষেত্রে সেটি মানা হচ্ছে না। সম্মেলনের রেজিস্ট্রেশন ফরমে দেখা গেছে, রেজিস্ট্রেশন ফি মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেটি ভারতের এইচডিএফসি ব্যাংকের লক্ষ্মৌ শাখার ৫০২০০০১৭৭৩২০৩২ হিসাবের বিপরীতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংগঠনটির আওতাভুক্ত হলেও এখানে তাদের কোন শাখা অফিস নেই। ঢাকায় সার্কএএডি’র সচিবালয় নামে ব্যবহৃত ঠিকানা একজন ব্যক্তি বিশেষের প্রাইভেট প্যাকটিসের চেম্বার। শুধু বাংলাদেশ নয়, সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোতেও সংগঠনটির কোন শাখা অফিস নেই। সম্মেলন উপলক্ষে সার্কএএডি থেকে একটি ব্রুশিয়ার প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে রেজিস্ট্রেশন ফরমে সংগঠনটির অফিসের ঠিকানায় ঐড় : ৬/১৬৩ ঠরহববঃ কযধহফ, এড়সঃর ঘধমধৎ, খঁপশহড়,ি ওহফরধ লেখা আছে। ইমেল যোগাযোগের ঠিকানায় এবং ওয়েবসাইটে লেখা আছে। বাংলাদেশে সম্মেলন হওয়ার পরও বাংলাদেশের সচিবালয়ের কোন ঠিকানা ব্রুশিয়ারে উল্লেখ নেই।

সম্মেলন নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি ডাঃ এসএম আহমেদ শামিম। তিনি বলেন, আমরা যাবতীয় নিয়ম মেনে সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছি। এ বিষয়ে সার্ক ডেস্কের এক কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের নিকট থেকে বাংলাদেশী মুদ্রায় রেজিস্ট্রেশন ফি নেয়া হচ্ছে।

সার্কের অনুমোদন ছাড়াই সার্কের নাম ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি জানান, আমরা আগে কাজ করে দেখাতে চাইছি। এ কারণে অনুমোদন নেয়া হয়নি। আর কাজ না দেখলে তো সার্ক আমাদের অনুমোদন দেবে না।

বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটি বাংলাদেশের চর্মরোগ ডাক্তারদের জাতীয় সংগঠন ওই সংগঠনকে সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি কোন ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেননি।