২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাড়ল ঢাকার আয়তন


গায়ে গতরে আয়তন বেড়েছে বর্তমান বিশ্বের উনিশতম মেগাসিটি ও অন্যতম দূষিত নগরী ঢাকার। শরীরে তার এমনিতেই ভরপুর খানাখন্দ। তদুপরি বৃষ্টিপাতে ভরাট জলাবদ্ধতা। দুর্বিষহ যানজট আর ভয়াবহ দূষণ এবং আবর্জনা ঝঞ্ঝালের ডিপো মহানগরীটি। তারই সঙ্গে সংযোজিত হলো আরও এলাকা। গ্রাম হিসেবে যার অবস্থান ছিল, এখন তা একলাফে মহানগরীর অবয়বে ঠাঁই পেল। পরিকল্পনাহীনভাবে এবড়ো-খেবড়োভাবে বেড়ে ওঠা। গড়ে ওঠা ঢাকার জীবন ধারায় আরও মানুষ যূথবদ্ধ হলো আরও অজস্র সমস্যাকে ধারণ করে। অজস্র লোকের ভারে জর্জরিত এমনিতেই ঢাকা। তারপরও প্রতিদিন সারাদেশ থেকে আসা সহস্রাধিক মানবের ভিড় হাঁটাচলার পথজুড়ে। অপরিকল্পিত ও বিশৃঙ্খল রাজধানীকে ‘তিলোত্তমা’ নগরীতে পরিণত করার অঙ্গীকার মাঝে মধ্যে শোনা যায়। এমন দুরূহ কাজটি যে অসম্ভবের পায়ে মাথা কুটে বেড়ানোর মতো, তা জানা সত্ত্বেও আবেগে-সংরাগে নগর কর্তারা এমন স্বপ্নজাল বুনেন। এমনকি তা সঞ্চারিত করতে চান অধিবাসীর মনোজগতে। কিন্তু বিধিবাম। এমনিতেই দেড় কোটি মানুষ এক শ’ ঊনত্রিশ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গিজগিজ করছে, তিপ্পান্নটি সংস্থা নগরবাসীর ন্যূনতম সমস্যারও সমাধানে যেখানে হিমশিম খায়, উপায় উদ্ভাবনে অপারগ হয়, ঠিক তখন আয়তন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এক শ’ একচল্লিশ বর্গকিলোমিটার এলাকার পাশাপাশি এখন দুই সিটি কর্পোরেশনকে আরও অন্তত ২০ লাখ লোকের সেবা দিতে হবে। কর্পোরেশনের এই পরিধি বাড়ানো সময়পোযোগী হলেও নগরবাসীর সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা আকাশকুসুম কল্পনার ফানুস হয়ে ভেসে বেড়াবে বুঝি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ১৬টি ইউনিয়ন যোগ করা হয়েছে। আটটি দক্ষিণে ও আটটি উত্তরে। এই ইউনিয়ন সংযুক্ত হওয়ার ফলে বর্তমান আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়াচ্ছে। দুই সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ওয়ার্ডের সংখ্যাও বেড়ে হবে ১২১টি। নয়া ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ন্যুব্জ ঢাকার জীবনে প্রাণসঞ্চার করা কষ্টকল্পিত হয়ে উঠতে পারে। মাঠ, পার্ক দখল, খাল ভরাট, বৃক্ষ নিধন, সরকারী জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ যেখানে স্বাভাবিক; সেখানে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি হবে আকাশের চাঁদ হাতে ধরার মতো। সেবাদানকারী ৫৩টি সংস্থার মধ্যে দরকার সেই যথাযথ সমন্বয়। ফলে নগরবাসী সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সুবিধা পায় না। তথাপি বেড়ে যাওয়া নগরীর পরিধির জনগণের জন্য নতুন করে সেবা প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি করতেও বিপাকে পড়বে কর্পোরেশন। দুটি কর্পোরেশনেই জনবল কম। দক্ষ, যোগ্য লোকের ঘাটতি ভীষণ। এত নেতিবাচক দিকের মধ্যে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বিস্তৃত নগরীর নতুন সংযোজিত অংশগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা। সরাসরি অনেক দফতর, ব্যাংক বীমাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এসব অঞ্চলে স্থানান্তর করা হলে নাগরিক সুবিধা বাড়বে। যানজট হ্রাস পাবে। নির্দিষ্ট এলাকা আর ঘনবসতি থাকবে না।

সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ করার বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার। এই ক্ষেত্রে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া অংশেও পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানান্তর করা যায় কিনা তা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা যেতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মেয়রদ্বয় সচেষ্ট হলে এটা অসম্ভব কিছু নয়। রাজধানী ঢাকা হয়ে উঠুক সকলের বাসযোগী সুপরিকল্পিত আধুনিক নগরী এই প্রত্যাশা সবার।