২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বর্বর ও নির্মম হত্যাকাণ্ড


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার এক দুর্গম এলাকায় শুক্রবার রাতে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। শনিবার তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশে ব্লগার ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যার ধারাবাহিকতার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রাজশাহীর তানোরে শহিদুল্লাহ নামে এক পীরকে হত্যা করা হয়েছে। এই পীর তরিকতপন্থী বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তাঁর বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে। ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে তাঁর বাসার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ এপ্রিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পরমানন্দ রায় নামের এক সাধু ছুরিকাঘাতে নিহত হন। কিছুদিন আগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার এক মঠের অধ্যক্ষকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে কয়েকজন বিদেশীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যই অভিন্ন। বৌদ্ধ ভিক্ষুর হত্যার রহস্য উদঘাটিত না হলেও সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ ঘটনার মিল রয়েছে। এই হত্যাকা-ে নিহতের স্বজন এবং রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত থাকার কথা উঠেছে।

আগে বেশিরভাগ হত্যাকা-ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বার্তা দিত। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে আইএসের কোন অস্তিত্ব নেই বলে বলা হয়। এই হত্যাকাণ্ডেও নিহতের স্বজন, রোহিঙ্গা, আইএস যারাই জড়িত থাক বা না থাক, এ ধরনের ঘটনা যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর একটি আঘাত।

যারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকুক, সুষ্ঠু তদন্ত করে তা উদ্ঘাটন করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করা জরুরী।

শুধু মুক্তবুদ্ধির চর্চা যারা করেন কেবল তারাই নন, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত বা বৌদ্ধ ভিক্ষু কেউ যেন আজ নিরাপদ নন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা শান্তিপ্রিয়, তারা শান্তির বাণী প্রচার করেন, তাদের এই করুণ মৃত্যু প্রত্যাশিত নয়। আসলে সমাজকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কখনও থেমে থাকেনি। তারই প্রমাণ এসব হত্যাকা-। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী অনুমান করা যায় প্রত্যেকটি হত্যাকা- পূর্বপরিকল্পিত।

এসব হত্যাকা- সুস্থ সমাজের পরিচয় বহন করে না। আইনী দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে।

আসলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলা দুর্বল হয়ে যায়। নাগরিকের নিরাপত্তা ও ঘাতকদের বিচারÑ সব ক্ষেত্রেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দায়িত্ব সরকারের। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধ বাড়ছে। যে কোন অপরাধের দ্রুত সময়ে বিচার হলে খুনের ঘটনা কমে যাবে। এসব হত্যাকা-ের বিচারের জন্য আলাদা একটা বিচারিক আদালত গঠন করা যেতে পারে। এ ধরনের হত্যার মিছিল অবশ্যই থামাতে হবে। প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। বৌদ্ধ ভিক্ষুর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র শক্ত হাতে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন করবেÑ এ প্রত্যাশা সবার।