মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সংবাদপত্রের সঙ্কট

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৬

প্রতি বছরের ন্যায় প্রাক-বাজেট আলোচনার অংশ হিসেবে এফবিসিসিআইসহ দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার নেতৃবৃন্দ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। এরই অংশ হিসেবে সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর নেতৃবৃন্দ ৮ মে রবিবার বৈঠক করেন এনবিআরের সঙ্গে। সেখানে তারা সংবাদপত্র শিল্পে ব্যবহৃত আমদানিকৃত নিউজপ্রিন্টের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক মওকুফের দাবি জানান। আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকেও অব্যাহতি চাওয়া হয়। এছাড়া সংবাদপত্র শিল্পের অন্যান্য জরুরী উপাদান যেমন- কালি, প্লেট ও প্রিন্টিং কেমিক্যালের ওপরও শুল্ক-কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই যে, বর্তমানে দেশীয় সংবাদপত্র শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন সংবাদপত্রের সঙ্গে তীব্র অসম প্রতিযোগিতা; অন্যদিকে নিউজপ্রিন্ট ও আনুষঙ্গিক উপকরণসহ মুদ্রণ ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সংবাদপত্র শিল্পকে শুধু দেশেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ঠেলে দিয়েছে এক সমূহ বিপর্যয়ের দিকে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে নিউজপ্রিন্টের দাম ক্রমশ উর্ধমুখী। ফলে নিউজপ্রিন্টের আমদানি ব্যয় ক্রমবর্ধমান এবং ডলারের বিনিময় হারও স্থিতিশীল নয়। এর সঙ্গে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ, মূসক ১৫ শতাংশ, সব মিলিয়ে মোট ২০.৭৫ শতাংশ প্রকৃত শুল্ক কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত শুল্ক পরিশোধ, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক, ব্যাংক সুদসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ। এর পাশাপাশি অন্যান্য উপাদান, যেমন- কালি, প্লেট, প্রিন্টিং কেমিক্যালস ইত্যাদির ওপরও শুল্ক কর, মূসক দিতে হয়। দেশে উৎপাদিত নিউজপ্রিন্টের মান ও দাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মোটকথা, পত্রিকা ছাপার ব্যয় দিন দিনই বাড়ছে। এক হিসাবে জানা যায়, বর্তমানে ২৪ পৃষ্ঠার একটি সংবাদপত্র মুদ্রণে ১৮ থেকে ২০ টাকা ব্যয় হলেও বিক্রি হয় ১০ টাকায়। কমিশন বাদ দিয়ে পাওয়া যায় সাড়ে ছয় টাকার মতো। ফলে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রধানত নির্ভর করতে হয় সংবাদপত্র শিল্পকে। তবে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সমস্যা-সঙ্কট ও অসম প্রতিযোগিতা।

দেশে যে হারে প্রিন্টিং ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংখ্যা বাড়ছে, সেই হারে বাড়ছে না বিজ্ঞাপনের বাজার। সরকারী বিজ্ঞাপনের অনুপাতও সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। তদুপরি বর্তমানে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন বিল দেয়ার সময় ৪ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখেন। পরবর্তীতে অগ্রিম করের চালান সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সমস্যা নিরসনে শিল্প-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞাপনী সংস্থাকেই উৎসে কর সরাসরি জমা দেয়ার বিধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সংবাদপত্র শিল্পে বিনিয়োগ অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগের মতো নয়। বরং কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও বটে। সাংবাদিকতা পেশাও ঝুঁকিপূর্ণ বৈকি। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য খাতে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও তুলনামূলকভাবে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা কম। সে তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিনই বাড়ছে। সে অবস্থায় সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশে সরকারের আরও কিছু করণীয় রয়েছে। সরকার যেহেতু সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, সেহেতু নিউজপ্রিন্ট কাঁচামাল হিসেবে পরিগণিত হওয়ার দাবি রাখে। সুতরাং নিউজপ্রিন্ট আমদানি শুল্ক ও মূসকমুক্ত সুবিধা পেতেই পারে। উল্লেখ্য, সংবাদপত্রে ব্যবহৃত আমদানিকৃত নিউজপ্রিন্টে ভারতে কোন শুল্ক নেই; শ্রীলঙ্কায় মাত্র আড়াই শতাংশ। সে অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নোয়াবের প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে বিবেচনা করে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে বলেই প্রত্যাশা। সংবাদপত্র শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশ এবং সংবাদপত্রের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তা অপরিহার্য।

প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৬

১৭/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: