২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বার্নিকাটের বাসায় মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক


স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মুখ্য উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম-ই-টডের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার সকাল সোয়া আটটার দিকে গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এ বৈঠক হয়। বৈঠকটি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে শেষ হয়। তবে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক চললেও বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন কথা বলেননি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। অবশ্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

বৈঠকে আলোচ্য বিষয় নিয়ে বিএনপি নেতারা মুখ না খুললেও অংশ নেয়া কয়েক নেতা বলেন, রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা তাতে অংশ নিয়েছি। তবে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিএনপির ছয় নেতা সরাসরি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময়ও তারা সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করেননি।

গত শনিবার বাংলাদেশে আসেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মুখ্য উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম-ই-টড। এরপর থেকে তিনি সরকারী সচিব, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টার বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশে আসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেও বিএনপির কোন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেননি।

বিএনপি ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে নাÑ ফখরুল ॥ বিএনপি কোন ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী। বরং সরকারের ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে গেছে। তারা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এ জন্যই তারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশীটের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ নেতাদের নামে দায়ের হওয়া মামলাকে মিথ্যা বলে দাবি করে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মামলা হামলা দিয়ে নেতাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি নেতারা সরকারের এ নির্যাতনকে ভয় করে না।

তিনি সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সঙ্কট নিরসনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করতে হবে। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের পরিবর্তন করতে চায়। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।

দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার হামলা মামলা গুম খুন করে বিএনপির নেতাদের ওপর নির্যাতনের সীমা ছাড়িয়েছে। বিএনপি ও তার দলের নেতাকর্মীরা মামলা ও হামলায় ভয় পায় না। সরকারই খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তারা কোন চক্রান্ত করে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না জেনেই বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। সরকার জানে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই সংবিধান সংশোধন করছে। যে ব্যবস্থা সবাই মেনে নিয়েছিল তা বাতিল করে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়। সরকারের ষড়যন্ত্র বিএনপির কাছে ধরা পড়ে গেছে। তারা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। অনৈতিক সরকার ছলে বলে কৌশলে টিকে থাকতে চায়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: