১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা রহস্য উন্মোচনে তিন বিষয়ে নজর পুলিশের


নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ১৬ মে ॥ বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শু উ হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তিন বিষয়ে নজর রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, মন্দির নির্মাণ সমস্যা, ভিক্ষুর পারিবারিক সমস্যা ও জঙ্গী সমস্যা, এই তিন সমস্যাকে সমানে রেখে আমরা হত্যা রহস্য উন্মোচনে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টতার বিষয় খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে দুই রোহিঙ্গাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি।

সোমবার সকালে পুলিশ গ্রেফতারকৃত তিন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হানিফ গ্রেফতারকৃত আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ সময় আসামিদের দেখতে আদালতে মানুষের ভিড় পরিলক্ষিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টায় পিতাকে পুত্রবধূ মা নুং চিং চাক ভাত দিতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় খবর দেয়, পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। কাঠের তৈরি বৌদ্ধ মন্দিরে শুয়া অবস্থায় ঘাড়ের পেছনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ভিক্ষুর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন শত্রুতা ছিল না বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। মং শু উ ওই এলাকার মৃত অংথোয়াই চাকের ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় নিহতের ছেলে চিং সা উ চাক বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করে।

স্থানীয়রা জানায়, ওপর চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরটি দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মন্দিরের নির্জন স্থানে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অংশ হিসেবে তিনি দুই বছর ধরেই সেখানে ধ্যান করছিলেন। নিহতের পরিবার থাকলেও তিনি মন্দিরটিতে একাই থাকতেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ রবিবার ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের ইতারিপাড়া থেকে তিনজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন জিয়াউর রহমান (২৫), আবদুর রহিম (৪০) ছা মং চাক (৪৫)। এর মধ্যে জিয়াউল হক ও আবদুর রহিম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা কিছু পাইনি। তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু আলামত পেয়েছি, আশাবাদী দ্রুত ভিক্ষু হত্যাকা-ের সঠিক রহস্য উন্মোচন করব।

এদিকে বান্দরবানের চাঞ্চল্যকর বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে পুলিশ। জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে সন্দেহভাজনদের ধরতে। জেলা থেকে পাঠানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষ গোয়েন্দাদের। ঘটনার পর থেকে উক্ত এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, জেলার গোয়েন্দা বিভাগসহ ৬ জন সিনিয়র কর্মকর্তা হত্যা রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।

এদিকে হত্যাকা-ের পর এলাকার লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং ভিক্ষুর সঙ্গে এলাকার কারও বিরোধ ছিল না, যে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে। বান্দরবান তথা সারাদেশের বৌদ্ধ অনুসারীরা এই নির্মম হত্যাকা-ের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধনসহ কর্মসূচী পালন করছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মংবাচিং চাক বলেন, ভিক্ষু অত্যন্ত শান্ত প্রাকৃতির ছিল, তাকে যে কেউ হত্যা করবে এটা আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না।

অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ির ওপর চাকপাড়ায় সোমবার তিনটার পর বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শু উর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৌদ্ধ অনুসারীরা এসে সমবেত হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: