১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

চলে গেলেন সাংবাদিক সাদেক খান


চলে গেলেন সাংবাদিক সাদেক খান

বিডিনিউজ ॥ প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক সাদেক খান মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)।

সোমবার বারিধারার বাসায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তার ভাই পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

সাদেক খানের গাড়িচালক নজরুল ইসলাম জানান, বেলা ১১টার দিকে তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢোকেন। এরপর দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে দরজা ভেঙ্গে তাকে বাথরুমের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রাশেদ খান মেননকে খবর দেয়া হলে তিনি এসে সাদেক খানের মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান নজরুল।

সাদেক খানের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।

গত শতকের পঞ্চাশের দশকে দৈনিক সংবাদে সাংবাদিকতা শুরু করা সাদেক খান বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইংরেজী সাপ্তাহিক ‘হলিডে’তে লিখেছেন।

সংবাদপত্রে কাজ করার পর তরুণ বয়সে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার নদী ও নারী সিনেমাটি মুক্তি পায় ষাটের দশকে।

রাজনৈতিক দর্শনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী সাদেক খানের সঙ্গে বিএনপির সখ্য ছিল। ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ গণশক্তি দল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।

সাদেক খানের মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

ষাটের দশকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি আবদুল জব্বার খানের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সাদেক খানই ছিলেন সবার বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়।

সাদেক খানের ভাইবোনদের মধ্যে আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ খান ছিলেন একজন সচিব। কবি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ নামে। গত শতকের আশির দশকে তিনি এইচএম এরশাদ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আরেক ভাই এনায়েতুল্লাহ খান ছিলেন সাপ্তাহিক হলিডে ও ইংরেজী দৈনিক নিউ এজ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর এরশাদের সময়ে চীন ও মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব তিনি পালন করেন।

বাকি ভাইবোনের মধ্যে সেলিমা রহমান বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়ার চারদলীয় জোট সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তাকে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বর্তমানে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাদের আরেক ভাই শহিদুল্লাহ খান বাদল এক সময় ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা ব্যাংকের একজন পরিচালক এবং নিউ এজের পরিচালনা পর্যদেও যুক্ত।

সাদেক খানের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: