২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন: পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ২৪ মে


নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দু’টি মামলায় সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে একজন যুগ্ম জেলা জজ, দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও একজন আইনজীবিসহ ৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবিরা তাদের জেরা করেন। আদালত পরবর্তী স্বাক্ষিদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার তারিখ আগামী ২৪ মে ধার্য্য করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে সাত হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাব-১১র সাবেক অধিনায়ক লে.কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামীদের উপস্থিতিতেই একজন যুগ্ম জজ, দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও একজন আইনজীবিসহ ৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়ে ৭ খুনের দুটি মামলায় মোট দুই মামলার বাদি, একজন যুগ্ম জেলা জজ, চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও বেশ কয়েকজন আইনজীবিসহ ৫৩ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

বাদিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদের স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে স্বাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে যুগ্ম জেলা জজ মনোয়ারা বেগম, সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাঈদুজ্জামান শরীফ, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ও সাধারণ নাগরিক মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার যে তিনজন বিচারক স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন যারা এই মামলার আসামীদের জবানবন্দি রেকর্ড ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তাই আদালতে এই বিচারকদের স্বাক্ষ্য প্রদানের ফলে মামলাটি প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি (পাবলিক প্রসিকিউটর) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার ৫ জন স্বাক্ষীকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হয়। তাদের সবাই আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, আজকের স্বাক্ষীরা তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। যা এই মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ২৪ মে ধার্য্য করেছেন। আগামী তারিখে আরো ৭/৮ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী যুবলীগ নেতা মরিুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর, সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণের তিন দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়। খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একটিসহ ফতুল্লা মডেল থানায় মোট দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: