১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে যুদ্ধাপরাধী বিচার হতো না


শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে যুদ্ধাপরাধী বিচার হতো না

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে পাকিস্তানের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশে কোনদিনই হতো না। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মন্ত্রী করেছেন, তাদের গাড়িতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের কলঙ্কিত করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে পুরো জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদ আয়োজিত ‘দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে ‘উন্নয়ন ভাবনা : প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রত্যাশা-২০৪০’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিএমএর মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এম ইকবাল আর্সলান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

সেমিনারে সাম্প্রতিক হত্যাকা- সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, কলাবাগান হত্যাকা-ের প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়েছে। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীরা গ্রেফতার হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।

আগামী বাজেটে উৎপাদন ও সেবার সব পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব সংশোধনে ব্যবসায়ীদের দাবি প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা এমন কিছু করব না, যাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রয়োজনে আমরা সময় নেব, কিন্তু এ ভ্যাট কেবল ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না। এটা কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবাই মিলে দিতে হবে। ফলে সবার জন্যই এটি দিতে সুবিধা হবে। পোশাক কারখানা পরিদর্শক এ্যাকর্ড এবং এ্যায়ালেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দুটি প্রতিষ্ঠান আমাদের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দিকে বিষয়টি আমার কাছে ভাল লাগেনি। তবে আনন্দের বিষয় তারা দেশের মাত্র ৩৪টি পোশাক কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থাও ফিরে এসেছে। কিন্তু ইউরোপের মুদ্রা ইউরোর অবমূল্যায়নে আমাদের রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে এবং ১০টি উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে দেশে আরও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। তৈরি পোশাক খাতে গ্যাসের সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলায় প্রচুর গ্যাস পাওয়া গেছে। গ্যাসের জন্য দেশে আরও ১০৮টি কূপ খনন করা হবে। আশা করছি, দেশে গ্যাসের সঙ্কট থাকবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এই বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। তিনি দেখে যেতে পারেননি। আজ তারই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন দৃঢ়চেতা ও বিশ্বনন্দিত নেতা। উন্নয়নসহ সব বিষয়েই তাঁর সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। জাতিকে স্বপ্ন দেখানো এবং সেই স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে নেয়ার গুণ শেখ হাসিনারই আছে। তাঁর নেতৃত্বেই ২০৪১ সালে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্নপূরণ হবে। সত্যিকার অর্থেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ড. মসিউর রহমান তাঁর মূল প্রবন্ধে দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়নের গুণগত অর্জন, শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক ও জীবনধারণের মানোন্নয়ন, জনমিতিক ডিভিডেন্ডসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অসাধারণ নেতৃত্বের জন্যই এ বিরল অর্জন সম্ভব হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: