২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মন্দার কবলে পড়বে ব্রিটেন


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে ইইউ ত্যাগ করলে ব্রিটেন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থাকা ও না থাকা নিয়ে গণভোটের প্রচার শনিবার যুক্তরাজ্যজুড়ে জোরদার হয়েছে। আগামী ২৩ জুন অনুষ্ঠেয় এই গণভোটের আগে জরিপে দেখা গেছে ব্রেক্সিটের পক্ষে ও বিপক্ষে সমর্থন সমান সমান। লন্ডনের সাবেক মেয়র ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন দাবি করেছেন, ইইউ একটি সুপারস্টেট তৈরির প্রচেষ্টায় নাৎসি জার্মান একনায়ক এডলফ হিটলারের মতো আচরণ করছে। খবর এএফপির।

ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন ও ক্যামেরন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও উভয়ে চান ব্রিটেন ইইউতে থাকুক এবং উভয়ই এই প্রচারে অংশ নিয়েছেন, যা দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে একত্রিত করেছে। লন্ডনের সাবেক মেয়র জনসনের মতো ‘লিভ’ প্রচারকারীরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ২৮ জাতি ব্লক ইইউয়ের বাইরে ব্রিটেন আরও সফল হবে এবং নিজেদের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবাধে দরকষাকষি এবং ইইউয়ের অপ্রয়োজনীয় কিছু নীতি থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফে রবিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে জনসন বলেছেন, গত দুই হাজার বছরের ইউরোপীয় ইতিহাসে দেখা গেছে, রোমান সম্রাটের অনুকরণে ইউরোপকে বার বার একক সরকারের অধীনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। নেপোলিয়ান, হিটলার ও আরও অনেকেই এমন করার চেষ্টা করেছেন এবং এর অবসান হয়েছে দুঃখজনক পরিণতির মাধ্যমে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই কাজ ভিন্ন পদ্ধতিতে করতে চাইছে। তবে সেখানে কোন একক কর্তৃত্ব নেই যাকে কেউ সম্মান করে বা বুঝতে পারে। এর ফলেই এই গণতান্ত্রিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। গণভোটের মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে ব্রিটেনজুড়ে শনিবার তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার অভিযান চলেছে। সরকারী ‘ইন’ ক্যাম্পেন বলেছে, তারা ইইউবিরোধী সমাবেশের সময় এক হাজারের বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘হোয়াট ইউকে থিঙ্কস’ নামে এক ওয়েবসাইটের করা সর্বশেষ ছয়টি জনমত জরিপের গড় অনুযায়ী, ‘রিমেন’ ও ‘লিভ’ প্রচারে সমর্থন সমান, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। সানডে মিরর ও ইনডিপেন্ডেন্টের জন্য কমরেসের করা পৃথক জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপ নিয়ে সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে ক্যামেরনের চেয়ে জনসনকে বেশি বিশ্বাস করে জনগণ। জরিপে অংশ নেয়া ৪৫ শতাংশ জানিয়েছে, তারা ক্যামেরনের চেয়ে জনমনকে বেশি বিশ্বাস করেন। অপরদিকে মাত্র ২১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ক্যামেরনকে তার পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী জনসনের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন। এই গণভোট নিয়ে ক্যামেরনের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে তিক্ত বিভাজন তৈরি হয়েছে। দলের ৩৩০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে একশ’ জনের বেশি ইইউ ত্যাগ করতে চান। বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি গণভোটে ক্যামেরন হেরে যান, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন।

ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) হুঁশিয়ারির এক সপ্তাহ পর ক্যামেরন শনিবার পশ্চিম লন্ডনে এক প্রচার অভিযানে বলেন, ইইউ ত্যাগ করলে ব্রিটেন অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, যদি আমরা ইইউ ত্যাগের পক্ষে ভোট দেই তাহলে আমরা উচ্চমূল্য, কম কর্মসংস্থান, নিম্ন প্রবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মন্দার পক্ষে ভোট দেব। এদিকে করবিনও তার দলকে ‘রিমেন’ ক্যাম্পেনের জন্য আরও কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জনসন শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ব্রিস্টলে এক সমাবেশে বলেছেন, যদি আমরা ২৩ জুন ইইউ ত্যাগের পক্ষে ভোট দেই তাহলে আমরা আমাদের দেশ, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাব এবং এরপর আমরা যে উন্নতি, সমৃদ্ধি ও সফলতা লাভ করব, যা আগে কখনও হয়নি।