১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সঞ্চয়ের সুদের হার


সঞ্চয়ের সুদ পাঁচ বছরে অর্ধেকে নেমে যাওয়া অশনি সঙ্কেত। দেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ না হলেই ব্যাংকিং সেক্টরে এ ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পায়। দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সেই সঙ্গে বছর বছর আমানতের টাকায় সুদের হারের নিম্নগামিতা প্রত্যক্ষ করে আসছেন, তাদের ভীতি অমূলক নয়। সর্বোচ্চ মন্দ পরিস্থিতি বিষয়ে আগাম হতাশা প্রকাশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষণ নয়। তবে এখনই সতর্ক না হলে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে আমানতকারীরা সুদের হারের ক্ষেত্রে মাইনাসের ফেরে পড়ে যান কিনা সে আশঙ্কা উঁকি দিতে পারে। তবে এক অর্থে প্রকৃত সুদহার মাইনাসই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, মার্চে ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার নেমেছে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশে, যা ওই মাসের গড় মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে মার্চ মাস শেষে দেশে এক বছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। ফলে প্রকৃত সুদহার ‘মাইনাস’ হয়ে গেছে বললে অত্যুক্তি হবে না।

সরকার সচেতন বলেই বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটাতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালের মার্চে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অথচ দুই বছরেও সে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারী যেসব বন্ধ শিল্প-কারখানা রয়েছে সেগুলোকে নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেবে নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষÑ এমন প্রত্যাশা তাই আলোর মুখ দেখছে না। বেসরকারী বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ড কাজ করে থাকে। অন্যদিকে বন্ধ কিংবা অলাভজনক সরকারী কল-কারখানা বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনে নিয়ে আসার দায়িত্ব প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের।

গত বছর সাধারণ মানুষের বুকের ভেতর হাতুড়ির বাড়ি পিটিয়েছিল পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাসের বিষয়টি। এ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল : ‘সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যত ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে। সে কারণেই সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ কিন্তু সঞ্চয়পত্র হলো স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার জায়গা। এই আমানত তাকে নিরাপত্তা দেয়। মানুষ রাষ্ট্র তথা সরকারের কাছ থেকেই এই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে। এই একটি খাতে সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিনিয়োগ করে। শেয়ারবাজারে ধস নামার বাস্তবতায় দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ প্রধানত সঞ্চয়পত্র খাতের মাধ্যমেই বিনিয়োগ করে থাকে। অবসরভোগী চাকরিজীবী, প্রবাসী ও সমাজের বিশেষ জনগোষ্ঠীর ভেতর সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের প্রবণতা বেশি। মধ্যবিত্ত শ্র্রেণীর মানুষ তার সারা জীবনের সঞ্চয়ের বড় অংশ এই খাতেই বিনিয়োগ করে থাকে ঝুঁকিহীনভাবে বেশি লাভের আশায়। আমরা বলেছিলাম খেলাপী ঋণ আদায়ের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণই যুক্তিযুক্ত।

অনেক দেরি হয়ে গেছে, দ্রুত বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করতে হবে। বড় বড় প্রাইভেট ব্যাংকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলোচনায় বসে করণীয় ঠিক করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ানো কোন কাজের কথা নয়।