২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কর ফাঁকি দিতেই অফশোর কোম্পানির মালিক হই


পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান শুক্রবার স্বীকার করেছেন, লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ব্রিটিশ কর ফাঁকি দিতে প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি একটি অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনে অবতরণ করার পর ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, একটি অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অধিকার ছিল আমার। তেহরিক নেতার লন্ডনে কোন বাড়ি নেই বলে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়ার একদিন পরই দলীয় প্রধান নিজেই এ কথা জানান। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও ডনের।

পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি ব্রিটিশ নাগরিক নই। আমার ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য সম্পূর্ণ কর আমি দিতে রাজি নই।’ তিনি আরও জানান, যেহেতু তার আয়ের ৩৫ শতাংশই তাকে কর দিতে হয়, তাই যেন আরও বেশি কর দিতে না হয় সেজন্য তিনি তার হিসাবরক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী এ কাজ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, ইমরান ১৯৮৩ সালে নিয়াজী সার্ভিসেস লিমিটেড নামে একটি অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং চ্যানেল দ্বীপের জার্সিতে এর রেজিস্ট্রেশন করেন। জার্সি দ্বীপ হলো অফসোর কোম্পানির জন্য অন্যতম স্বর্গরাজ্য। ইমরান ১৯৮৪ সালের মে মাসে দক্ষিণ কেনসিংটনে একটি ফ্ল্যাট কিনতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করেন। ওই দিনগুলোতে ইমরান ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলছিলেন। এদিকে ইমরান দাবি করছেন, বিদেশে উপার্জিত অথবা বিনিয়োগকৃত তার সকল অর্থই পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অবৈধ কিছু নেই দাবি করে পিপিআই প্রধান জানান, তিনি কখনই লন্ডনে তার ফ্ল্যাটের কথা অস্বীকার করেননি। ইমরান ব্যাখা দেন, ২০১২ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যখন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বাণী গালা’ বাসভবনের অর্থ আমি কোথা থেকে পেয়েছি, তখন আমি নিয়াজী সার্ভিসেস থেকে লন্ডন ফ্ল্যাটের ও পাকিস্তানে আমি যে বাড়ি তৈরি করেছি সেগুলো বিক্রয়ের দলিলপত্র দেখিয়েছিলাম। ফ্ল্যাটটি ২০০৩ সালে বিক্রয় করে দেয়া হয়েছে বলেও ইমরান জানান। এর আগে মাওস্যাক-ফনসেকার তথ্য-উপাত্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের জড়িত থাকার বিষয় ফাঁস হওয়ার পর জনগণের অর্থপাচারের জন্য নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের কঠোর সমালোচনা করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের এই নেতা। গত মাসে পানামার ওই ল ফার্মটির ফাঁস হওয়া তথ্যে প্রধানমন্ত্রীর তিন সন্তান- হাসান, হুসেইন ও মরিয়মের নামে ব্রিটেনের ভার্জিনিয়া দ্বীপে রেজিস্ট্রি করা অন্তত তিনটি অফসোর কোম্পানির নাম বের হয়ে আসে। ইমরান বলেন, আমি সেই সব পাকিস্তানীদের একজন, যারা বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করেন এবং এগুলো দেশে ফিরিয়ে আনে। তারা (নওয়াজ) জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন এবং বিদেশেই এগুলোকে লুকিয়ে রেখেছেন। ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি, এবং তিনি তার উত্তর দিতে বাধ্য।’