২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অনার্স ও মাস্টার্স কলেজগুলো র‌্যাংকিংয়ের আওতায়


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো তার অধিভুক্ত অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের কলেজকে র‌্যাংকিংয়ের আওতায় আনল। ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে অধিভুক্ত ৬৮৫টি কলেজে ২০১৫ সালের জন্য স্কোরের ভিত্তিতে এ র‌্যাংকিং করা হয়েছে। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ৭৮টি কলেজ জায়গা করে নিয়েছে সেরাদের তালিকায়। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁঁঁচ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ (বেসরকারী) ও বরিশালের সরকারী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অঞ্চল থেকেও প্রতিটির জন্য সেরা দশ কলেজ নির্বাচন করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ধানম-িতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নগর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাংকিংয়ের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ নোমান উর রশীদ প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৬৮৫টি অনার্স ও মাস্টার্স কলেজের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের এ উদ্যোগে ৪২২টি কলেজ অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৭১টি কলেজ র‌্যাংকিংয়ে আসার মতো ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে বাকি ১৫১টি কলেজেরই র‌্যাংকিং করা হয়। এতে প্রথম স্থান অধিকারী রাজশাহী কলেজের পয়েন্ট ৬৫ দশমিক ৩৩। আর সর্বশেষ স্থানে থাকা রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজের পয়েন্ট ৬ দশমিক ৭৭। ৩১টি মানদ-ের মাধ্যমে এই র‌্যাংকিং করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট রয়েছে একাডেমিক পারফর্মেন্সে। এছাড়াও শিক্ষকের সংখ্যা, তাদের প্রশিক্ষণ, একাডেমিক পরিবেশ, একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা, লাইব্রেরি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধাসহ নানা বিষয় রয়েছে এ মানদ-ের মধ্যে। সেরা হওয়া কলেজকে অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ ধরনের আয়োজন দেশে প্রথম। এর ফলে কলেজসমূহ তাদের স্ব স্ব অবস্থান জানতে পারবে এবং কিভাবে শিক্ষার সার্বিক অবস্থার আরও উন্নতি করা যায় সেজন্য প্রচেষ্টা করবে। কলেজসমূহের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সেরা ৭৮ কলেজকে আগামী শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারক সম্মাননা, সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান উপস্থিত থাকবেন।

কলেজ র‌্যাংকিং নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হলেও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমরা আগে চেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজটমুক্ত হোক। এর পর আমরা মানের বিষয়টি দেখছি। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের জাঁতাকলে কিছু শিক্ষার্থী ক্র্যাশ হবে এটাই স্বাভাবিক।’ ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের ডিগ্রীর মান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের র‌্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ১৫১টি কলেজ ন্যূনতম মানদ- অর্জন করেছে বলে ঘোষণা করল। এতে ইউজিসির প্রতিবেদনের সত্যতাই নিশ্চিত হলো বলে প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই সাতটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের জন্য স্থায়ী জায়গা পেতে যাচ্ছি। রাজধানীর ধানম-িতে একটি কার্যালয়ও কেনা হয়েছে। সকালে গাজীপুরে অফিস করছি আর বিকেলে নগর কার্যালয়ে। সেশনজট নিরসন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও একাডেমিক উন্নয়নে গত তিন বছরে ৩৩টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পও আমরা ডিপিপি আকারে সরকারের কাছে জমা দিয়েছি।

র‌্যাংকিং অসুসারে জাতীয় পর্যায়ে সেরা পাঁচ কলেজ ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে সেরা মহিলা কলেজ হচ্ছে ইডেন মহিলা কলেজ। জাতীয় পর্যায়ে সেরা সরকারী কলেজ হচ্ছে রাজশাহী কলেজ। জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারী কলেজ হচ্ছে ঢাকা কমার্স কলেজ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অঞ্চলের প্রতিটিতে সেরা দশ কলেজ নির্বাচন করা হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ, টাঙ্গাইলের সরকারী সা’দত কলেজ, ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, ঢাকার সরকারী তিতুমীর কলেজ, সরকারী বাঙলা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ ও কবি নজরুল সরকারী কলেজ।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, কুমিল্লার সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ, ফেনী সরকারী কলেজ, চট্টগ্রামের সরকারী সিটি কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, সরকারী হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ, পটিয়া সরকারী কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ ও চট্টগ্রামের ওমর গণি এম ই এস কলেজ।

রাজশাহী অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ রাজশাহী কলেজ, বগুড়ার সরকারী আজিজুল হক কলেজ, সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ, রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ কলেজ, বগুড়ার সৈয়দ আহমদ কলেজ, রাজশাহী সরকারী মহিলা কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ, নওগাঁ সরকারী কলেজ, বগুড়ার সরকারী মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ, রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজ।

খুলনা অঞ্চলের সেরা কলেজ : সরকারী এম এম কলেজ, যশোর, কুমিরা মহিলা ডিগ্রী কলেজ, সাতক্ষীরা (বেসরকারী), সরকারী মহিলা কলেজ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজ, উপশহর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, যশোর (বেসরকারী), সাতক্ষীরা সিটি কলেজ (বেসরকারী), কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজ, সরকারী পি সি কলেজ, বাগেরহাট, সরকারী শ্যামনগর মহসীন কলেজ, সাতক্ষীরা, নওয়াপাড়া কলেজ, যশোর (বেসরকারী)।

বরিশাল অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ বরিশালের সরকারী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, সরকারী বরিশাল কলেজ, ভোলা সরকারী কলেজ, বরগুনা সরকারী কলেজ, বরিশালের সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, পিরোজপুরের সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ভোলার চরফ্যাশন সরকারী কলেজ ও বরিশালের সরকারী ফজলুল হক কলেজ।

সিলেট অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ সিলেটের এম সি কলেজ, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারী কলেজ, সিলেটের সরকারী মহিলা কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ, সিলেটের মদনমোহন কলেজ, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজ ও মৌলভীবাজারের সরকারী শ্রীমঙ্গল কলেজ।

রংপুর অঞ্চলের সেরা কলেজ ॥ রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, দিনাজপুর সরকারী কলেজ, লালমনিরহাটের আলিমুদ্দিন কলেজ, রংপুরের সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজ, কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ, লালমনিরহাটের উত্তরবাংলা কলেজ, নীলফামারী সরকারী কলেজ, দিনাজপুর সরকারী মহিলা কলেজ, লালমনিরহাট সরকারী কলেজ, লালমনিরহাট ও রংপুর সরকারী কলেজ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: