১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা রাজনৈতিক আত্মহত্যা


ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা রাজনৈতিক আত্মহত্যা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেছেন, বাংলাদেশের কোন দল ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইলে সেটা হবে রাজনৈতিক আত্মহত্যা। এছাড়া দিল্লীতে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে মোসাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ফিলিস্তিনের ৬৮তম নাকাবা (বিপর্যয়) দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর গুলশানে ফিলিস্তিন দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান।

দিল্লীতে বিএনপির সঙ্গে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতিনিধির বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি দিল্লীতে বিএনপির সঙ্গে ইসরাইলের বৈঠক হয়েছে। তবে সেই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বিএনপি। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিলিস্তিন দূতাবাসে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লীর বৈঠকে বিএনপির কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তবে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ ফিলিস্তিনের পক্ষে রয়েছে। এই দেশের কোন দল ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইলে সেটা হবে রাজনৈতিক আত্মহত্যা।

দিল্লীর বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির প্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়ে ফিলিস্তিন অবহিত কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিল্লীর বৈঠকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর উপস্থিতির বিষয়ে জানতে পেরেছি। তবে বিএনপি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, আসলাম চৌধুরী সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেননি।

দিল্লীতে বিএনপি-মোসাদের বৈঠক ষড়যন্ত্র কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিল্লীর ওই বৈঠকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছি আমরা। সেখানে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই তিনটি বিষয় হলো বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া।

তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইলে বাংলাদেশের জনগণ সেটা মেনে নেবে না। কেননা বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক কখনই বিনষ্ট হবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের পত্রিকা জেরুজালেম অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য ইসরাইল কাজ করছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি এ্যান্ড এ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি সাফাদি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। তিনি ইসরাইলের সাবেক লিকুদ পার্টির সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। মোসাদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। ভারত সফরকালে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন সাফাদি। সে সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ইসরাইলের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফিলিস্তিনের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্সের আলোচনার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার ৭৫ মিনিট বৈঠক হয়েছে। সে সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি সব সময়ই ফিলিস্তিনের পাশে রয়েছেন।

নাকাবা দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স বলেন, ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। সে সময় সাত লাখ ফিলিস্তিনী বাস্তুচ্যুত হয়। তারা শত শত ফিলিস্তিনী শহর ও গ্রাম দখল করে নেয়। এরপর থেকেই প্রতিবছর ১৫ মে ফিলিস্তিন নাকাবা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই বছরও বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সে কারণে বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের ভিত গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার মতোই সেই ভিত এখনও সুদৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, দিল্লীতে বিএনপির সঙ্গে মোসাদের যে বৈঠক হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এ বিষয়ে সরকার থেকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘গণমাধ্যম, সরকারী খাত ও সুশাসন’ বিষয়ে এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে পুলিশ বিভাগ থেকে জনগণ কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। সাধারণ জনগণ পুলিশের কাছে যেতে ভয় পান। রাষ্ট্রের মধ্যে পুলিশের ঔদ্ধত্য বাড়ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুশাসন সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: