২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

গরিবের ঘরে চাঁদের আলো


স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ মেধাবী জয় করেছে দারিদ্র্য। আকাশ ছোঁয়া এ সাফল্যেও অভিভাবকদের মনে শঙ্কার পাহাড়। দু’চোখে অন্ধকার, তারপরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার দুর্বার সাহস।

আফিয়া ফারজানা (বর্না)

অভাবের জ¦ালা যে কতটা ভয়াবহ তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে আফিয়া ফারজানা (বর্না)। শুধু টাকার অভাবে স্কুলে যেতে পারেনি মাসের পর মাস। মাত্র একটি স্কুল ড্রেসে কেটে গেছে দু’বছর। টিউশনি পড়ার সামর্থ্য হয়নি। উপোস করে স্কুলে আসা ছিল নিত্য ঘটনা। ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করা ছিল খুব কষ্টের। আয়-রোজগারের কেউ নেই। নেই আবাদী জমি। বাবা আব্দুল খায়ের কৃষিশ্রমিক। কাজ পেলে জোটে ভাত, না হলে উপোস। এরপরও বড় বোন বাবলি কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজে অনার্সে শেষ বর্ষের ছাত্রী আর ছোট বোন ঝর্ণা কুড়িগ্রাম সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্রী। তিন বোনকে নিয়ে পাঁচজনের টানাটানির সংসার। বাড়িতে বসে মা আফরিমা বেগম (পপি) সেলাইয়ের কাজ করে সামান্য আয় করে। সময় পেলেই মায়ের কাজে সহায়তা করে আফিয়া ফারজানা। কখনও টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছে। এত প্রতিকূলতার মাঝেও আফিয়া ফারজানা চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে মা-বাবার কষ্ট সার্থক করেছে।

রাকিব উজজামান

অনাহার-অর্ধাহার-অপুষ্টি ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী রাকিব উজজামানের। মা উম্মে সালমা প্রতিবন্ধী। বাবা নূরজামাল সরকার অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর শ্রমিক। প্রতিদিন ৮কিঃমিঃ পথ পেরিয়ে আসতে হতো স্কুলে। ছিল না টিউশনি পড়ার সামর্থ্য। এক ড্রেসে কেটেছে ৯ম ও দশম শ্রেণী। একে ছিল না পুষ্টিকর খাবার তার ওপর শরীরে বাসা বাঁধে জটিল চর্মরোগ। টাকার অভাবে সে চিকিৎসাও বন্ধ। এমন শতেক বাধা রাকিব উজজামানের সেরা সাফল্য ছিনিয়ে নিতে পারেনি। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামে রাকিব উজজামানের বাড়ি । দু’ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে বিবিএ সম্মান শ্রেণীতে পড়ে। ফলে চার জনের সংসারে অভাব লেগেই আছে। রাকিব উজজামান জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তৌহিদ আহমেদ সৌরভ

সদর উপজেলার পৌর এলাকার কামারপাড়া গ্রামের দরিদ্র বিদ্যুত মিস্ত্রি গোলাম মোস্তফার দ্বিতীয় ছেলে তৌহিদ আহমেদ সৌরভ এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুড়িগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে।

মা নুরনাহার বেগম বলেন, আমার ছেলে খুবই মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় এবং জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। শত প্রতিকূলতার মাঝেও ধারাবাহিক সফলতা এনে দিয়েছে আমাদের। কিন্তু ওদের কষ্ট ছাড়া কিছুই দিতে পারিনি। মাসেও জুটত না ডিম, দুধ কিংবা মাংস। জুটত না পেট ভরে খাবার।

শাহীন আলম

অভাব এতটাই প্রকট যে দিনের পর দিন চুলায় আগুন জ্বলেনি। উপোস নিত্যসঙ্গী। পাঁচজনের সংসারের চাকাই যেখানে সচল নয় সন্তানের পড়াশোনা দুঃস্বপ্ন। দ্বিতীয় ছেলে সাজু মিয়া মানসিক প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে রাজুকে সেখানে অভাবের তাড়নায় অন্যের দোকানে (স্বর্ণের) কাজে লাগিয়ে দিয়েছে।

বিনিময়ে জোটে রাজুর দু’বেলার খাবার। আর বড় ছেলে শাহীন আলম শতেক বাধা অতিক্রম করে চালিয়ে নিয়েছে লেখাপড়া।

নিজের লেখাপড়াকে এগিয়ে নিতে টিউশনি পড়ানো এমনকি বন্ধের দিনে দিনমজুরের কাজও করতে হয়েছে তাকে। অদম্য ইচ্ছা শক্তির কারণে দারিদ্র্যতাকে জয় করেছে শাহীন। তার পরও সে স্বপ্ন দেখে চিকিৎসক হবার।

নুরনবী সরকার

স্কুল বন্ধের সময় অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে এবং শিশুদের টিউশনি পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নিতে হয়েছে নুরনবী সরকারকে। শতেক বাধা আর প্রতিকূল পরিবেশেও নুরনবী এসএসসি পরীক্ষায় হলোখানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামে তাদের বাড়ি। বাবা আফতাব আলী পেশায় দিনমজুর, মা নুরনাহার বেগম গৃহিণী। দু’বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নুরনবী সবার ছোট। দু’বোন বাড়িতে আইবুড়ো হয়ে বসে আছে। টাকার অভাবে বিয়ে হচ্ছে না। পাঁচজনের সংসারে তিন বেলা পেটপুরে খাবার জোটে না। অনাহার-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটে।

পূজা পাল

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ টেকনাফের হ্নীলা হাই স্কুল থেকে পূজা পাল এসএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পূজা পাল শিশুকাল থেকে মেধার স্বাক্ষর রেখে পিইসিতে প্রথম বিভাগ ও জেএসসিতে জিপিএ-৪.৯৪ পেয়েছিল।