২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না পুঁজিবাজার। সম্প্রতি কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে সূচক কিছুটা বাড়লেও আবারও দরপতনে ফিরে এসেছে বাজারটি। মূলত বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা ও ধীরে চলো নীতির কারণেই বাজারে সূচকের পতন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক সূচক কিছুটা কমেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় উভয় বাজারেই লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আলোচিত সপ্তাহে প্রধান বাজারে মোট ১২ শতাংশ লেনদেন বেড়েছে। তবে সপ্তাহটিতে ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ বা ৮ পয়েন্ট। আর অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জের (সিএসই) সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ১৪ পয়েন্ট।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৮ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ১ পয়েন্ট। তবে ডিএসই৩০ সূচক বেড়েছে প্রায় ২ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সিএসইর সিএএসপিআই সূচক কমেছে ১৬ পয়েন্ট, সিএসই৩০ ১৫ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স কমছে ১৪ পয়েন্ট। এদিকে আগের সপ্তাহের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার। শতাংশের দিক থেকে এ লেনদেন বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে গড় লেনদেন কমেছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আর গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে চার কার্যদিবস। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে ৩৯১ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৪৩৬ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৯১ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, মবিল যমুনা বিডি, বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, লিন্ডে বাংলাদেশ শাহজিবাজার পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ডরিন পাওয়ার জেনারেশন।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : প্রাইম ইসলামী লাইফ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ফারইস্ট নিটিং, জিএসপি ফাইন্যান্স, শাহজিবাজার পাওয়ার, হাক্কানী পাল্প, ন্যাশনাল পলিমার, উত্তরা ফাইন্যান্স, ইবিএল এনআরবি ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ও লিন্ডে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ১০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৯৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আলোচিত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ২০ শতাংশ।

গত সপ্তাহে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৮১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৫টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৩৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির।