২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বন্ধ কোম্পানির ৭ দিনে দর বাড়ল ৫৩ শতাংশ


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে উৎপাদন বন্ধ করেছে কোম্পানিটি। সারেন্ডার করেছে ফ্যাক্টরি ও ট্যাক্স-ভ্যাটসহ সব ধরনের লাইসেন্স। তবুও হু হু করে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারের দাম। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। আর ৭ কার্যদিবসে এর দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশের বেশি। এমন অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কেএ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বন্ধ কারখানা ভাড়া দেয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ৯ দিনে কেএ্যান্ডকিউর শেয়ারের দাম ১৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ২৬ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। মাঝখানে শেয়ারটির দাম বেড়ে ২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গড়ে প্রতিদিন শেয়ারটির দাম বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।

কেএ্যান্ডকিউর শেয়ারের এই উল্লম্ফন শুরু হয় চলতি মাসের ২ তারিখে। সপ্তাহের মাঝখানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়, এর পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির সব জায়গা ও কারখানার কার্যালয় সিজে ফুড (বাংলাদেশ) নামের অপর একটি কোম্পানির কাছে ১৫ বছরের জন্য ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে কেএ্যান্ডকিউর পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের মালিকানাধীন মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কেএ্যান্ডকিউ। এই কোম্পানির প্রধান দুটি ইউনিটের একটিতে ড্রাইসেল ব্যাটারিতে ব্যবহৃত কার্বন রড উৎপাদন করত। অন্য ইউনিটে উৎপাদন করা হতো আলকাতরা। এছাড়া কোম্পানিটি কয়েক ধরনের কীটনাশক পুনরায় মোড়কজাত করে থাকে।

শুধু উৎপাদন বন্ধ নয়, কোম্পানিটি তার ট্রেড লাইসেন্স, কারখানার লাইসেন্স, আমদানি-রফতানি লাইসেন্স, ট্যাক্স-ভ্যাট লাইসেন্সসহ সব ধরনের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে আবেদন জানিয়েছে।

জানা গেছে, দেশে ড্রাইসেল ব্যাটারির সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল রেডিও এবং টর্চ লাইটের জন্য। কিন্তু রেডিওর ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত টর্চ লাইটের ব্যবহারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এসব কারণে ব্যাটারির চাহিদা কমে যাওয়ায় কেএ্যান্ডকিউ উৎপাদিত কার্বন রডের চাহিদাও প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এসব কারণে গত কয়েক বছর ধরেই লোকসান দিয়ে চলেছে কোম্পানিটি। চার কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান এখন চার কোটি টাকার বেশি। এমন অবস্থাতেই কোম্পানিটি তার সব ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

গত ৮ মে কোম্পানিটি তার কারখানা প্রাঙ্গণ ও অফিস অন্য কোম্পানির কাছে ভাড়া দেয়ার কথা জানায়। আর তার পরদিন শেয়ার মূল্যের উল্লম্ফনের মাত্রা বেড়ে যায়। গত ৯, ১০ ও ১১ মে প্রতিদিনই কেএ্যান্ডকিউর শেয়ারের দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি হারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ১৫ বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ৩ বছরে প্রতি বছর কোম্পানিটি জমির জন্য প্রতি বর্গফুটে ভাড়া পাবে ৮ টাকা। আর অফিস ভবনের জন্য প্রতি বর্গফুটে ১২ টাকা করে ভাড়া পাওয়া যাবে।

কোম্পানির দেয়া তথ্যানুসারে, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অফিস ভবনের জায়গা কতটুকু আর কারখানা প্রাঙ্গণের কতটুকু তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই গড় ভাড়া ১০ টাকা ধরে হিসাব করলে দেখা যায়, ভাড়া বাবদ কোম্পানিটি ১১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারে।